মসজিদে নামিরাহতে আরাফার খুতবা দিয়েছেন শায়খ আলী আল-হুদাইফি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১৮:৩৮
২০২৬ সালের পবিত্র হজ পালন উপলক্ষে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরাহতে আরাফার খুতবা দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম শায়খ আলী আল-হুদাইফি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ
সময় বিকাল তিনটার পরে দেয়া খুতবায়
তিনি তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা
এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের
ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিবেদন সামা টিভির।
তিনি
সতর্ক করে বলেন, ‘কিয়ামতের
দিন মুখোমুখি হতে হবে এক
ভয়াবহ বাস্তবতার। সেদিন সময় থেমে যাবে
এবং প্রত্যেক মানুষকে তার আমলের হিসাব
দিতে হবে।’
খুতবায়
মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আল্লাহভীতি অর্জন এবং পরকালের জবাবদিহিতার
বিষয়টি সর্বদা স্মরণে রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও শায়খ
আল-হুদাইফি তাওহিদের ওপর জোর দিয়ে
বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করা
যাবে না এবং ইবাদত
একমাত্র সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হতে হবে।
প্রসঙ্গত,
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ও তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ আরাফাতের ময়দানে
সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা
১৬ লাখের বেশি হাজি। মঙ্গলবার
(২৬ মে) জিলহজ মাসের
৯ তারিখ ভোর থেকেই তারা
আরাফাতের প্রান্তরে ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর
স্মরণে মগ্ন হন। ইসলামী
ঐতিহ্যে ‘হজের মূল স্তম্ভ’
হিসেবে পরিচিত এই অবস্থানকে ঘিরে
পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
ইসলামী
ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান বা ‘উকুফে আরাফা’কে হজের মূল
স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হজের
গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)
বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফা’। ইসলামী চিন্তাবিদদের
মতে, এই দিনটি ইসলামী
ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র দিন এবং এটি
রহমত, ক্ষমা ও আত্মিক শুদ্ধির
সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ
দিনটি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী
(সা.)-এর বিদায় হজের
স্মৃতির সঙ্গেও জড়িত। সেই সময় আরাফাতের
জাবালে রহমতে তিনি ঐতিহাসিক বিদায়
হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই
ভাষণে ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের জীবন
ও সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
আরাফাতে
যাওয়ার আগে হাজিরা মিনায়
‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। মূলত
আরাফাতে যাওয়ার আগে মিনায় অবস্থান
করে তারা হজের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য শারীরিক ও
মানসিক প্রস্তুতি নেন।
চলতি
বছর হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত ও সেবা নিশ্চিত
করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র
স্থানগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জরুরি সহায়তা
ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
৪৫
ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং
দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে
না থাকার পরামর্শও দেয়া হয়।
মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালনের প্রস্তুতিও সেখানে নেয়া হবে।

logo-2-1757314069.png)
