সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অভিযোগের জেরে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফর ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক চলছিল, তখন নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কার্টুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্টুনটিতে মোদিকে সাপুড়ে হিসেবে দেখানো হয়। এরপরই এটি গঁৎবাঁধা বদ্ধমূল বর্ণবাদী ধারণা ছড়ানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কার্টুনটি প্রকাশ করেছিল নরওয়ের দৈনিক আফটেনপোস্টেন। অসলোতে মোদির অবতরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একটি মন্তব্যধর্মী নিবন্ধের সঙ্গে এটি ছাপা হয়। মোদির এক সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুনটি ভাইরাল হয়ে যায়।
কার্টুনটি প্রকাশিত হয়েছিল একটি মতামতধর্মী নিবন্ধের সঙ্গে। সেই নিবন্ধের শিরোনামের বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘চতুর কিন্তু বিরক্তিকর এক মানুষ।’ ওই নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয় কেন ভারতের নজর নর্ডিক অঞ্চলের দিকে। আর কার্টুনে মোদিকে একজন ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখানো হয়, যেখানে সাপের জায়গায় ছিল জ্বালানি স্টেশনের ফুয়েল পাইপ।
‘সাপুড়ে’র প্রতীকটিকে বহুদিন ধরেই পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ ভারতে ও ভারতীয়দের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে এসেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটিকে ব্যাপকভাবে বিদেশিবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী রূপক হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। এই প্রতীক নিয়েই ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে সমালোচনা করেছিলেন মোদি। তখন তিনি বলেছিলেন, ভারত এখন কম্পিউটারের ‘মাউস দিয়ে জাদু করে’, সাপুড়ের বীণ দিয়ে নয়।
এর আগেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে, যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। গান্ধীনগরে ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট ইয়ুথ কনভেনশনে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ভারত এখন ‘সাপুড়ের দেশ’ থেকে ‘মাউস–চার্মারের দেশে’ রূপান্তরিত হয়েছে।
পত্রিকার ওই কার্টুন ভাইরাল হওয়ার সময়ই নরওয়ে সফর শেষ করেন মোদি। অসলোতে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ঘিরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং তা নিয়ে অনলাইন ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। নরওয়ের এক পত্রিকা ভাষ্যকার হেলে লিং এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গোর স্তোরের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার স্থান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন মোদি। পোস্টের ক্যাপশনে লিং লেখেন, মোদি তাঁর প্রশ্ন নেননি। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমার প্রশ্ন নেননি। যদিও আমি সেটি প্রত্যাশাও করিনি।’
বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারত ১৫৪ তম স্থান থেকে নেমে ১৫৭ তম স্থানে গেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে মোদির বেরিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যখন লিং প্রশ্ন করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নরওয়ে কেন ভারতকে ‘বিশ্বাস’ করবে।
জবাবে ভারতীয় কূটনীতিক সিবি জর্জ ব্যাখ্যা দেন কেন নয়াদিল্লিকে বিশ্বাস করা যায় এবং কেন ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার। তিনি ভারতের সভ্যতাগত ইতিহাসকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

logo-2-1757314069.png)
