হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যান্য অধিকার বহালের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ইমরান খানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৭:১২
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করার আদেশ দিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, পরিবার ও আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার এবং তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পরিবারের কাছে সরবরাহের নির্দেশনা চেয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন ইমরান খান এবং অনুরোধ জানান, তাঁকে যেন ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে, সুপ্রিম কোর্টে একই ধরনের আবেদন করেছিলেন ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খান। তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন। সেই রায়ে ইমরান খানকে এসব সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। ইমরান খানের তরফ থেকে নতুন এই আবেদন দাখিল করেছেন সিনিয়র আইনজীবী উজাইর কারামত ভান্ডারি। আবদনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১২ মার্চের ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়েছেন।
আবেদনকে নিয়মিত আপিলে রূপান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ইমরান খান আদালতের কাছে অবিলম্বে তার পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশনা চেয়েছেন। ওই চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন—ডা. খুররম মির্জা, ডা. আসিম ইউসুফ, ডা. ফয়সাল সুলতান এবং ডা. সামিনা নিয়াজী।
এ ছাড়া তাঁকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে স্থানান্তর, কারাবন্দি ও চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও অনুরোধ করা হয়েছে—গত চার মাসের তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসা নথি—যার মধ্যে চোখের পরীক্ষার রিপোর্ট, ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত—পরিবারের কাছে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রক্রিয়া চলাকালে পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের নিয়মিত অবহিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ডান চোখের অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে অ্যামিকাস কিউরি সালমান সফদার যে প্রতিবেদন জমা দেন, সেখানে বলা হয়, ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ নামের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর ডান চোখে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে।
কারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খানকারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খান
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তিন থেকে চার মাস আগে থেকেই তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে ঝাপসা দেখার সমস্যার কথা বারবার জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে শুধু আই ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার চোখে গুরুতর ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি দেখা দেয়।
আবেদনে সতর্ক করা হয়েছে—এই রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হৃদ্যন্ত্র বা মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, যা কারাগারের ভেতরে সম্ভব নয়।
এ ছাড়া, কারাবন্দি ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির আইনজীবীরা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে যুক্তিতর্ক শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তারা এই সময়সীমাকে ‘কঠোর, অযৌক্তিক ও অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করে বলেন, ৩০ এপ্রিলের আদেশে যেভাবে যুক্তিতর্ক শেষের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা মামলার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এটি ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মামলার নতুন অগ্রগতি। মামলাটি আল কাদির ট্রাস্ট মামলাও নামে পরিচিত। এই মামলায় পিটিআই নেতাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। ইমরান খান ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে আরেকটি মামলায়ও কারাবন্দি। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

logo-2-1757314069.png)
