Logo
×

বিশ্ব

হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫

হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে।

এর মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ বিনা বাধায় চলাচলের সুযোগ দেবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। সেই লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে বুধবার তেহরান পৌঁছান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একইদিন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খরব, আলোচনার টেবিলে তেহরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে পারে। ইরান জানিয়েছে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে বিনা বাধায় চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে। তেহরানের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় একটি প্রস্তাব দিয়েছে—যদি নতুন করে সংঘাত এড়াতে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে তারা ওমানের দিক দিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদভাবে চালু রাখতে পারে বলে বিবেচনা করছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, ইরান সম্ভবত ওমানের জলসীমার দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে পারে। তবে ইরান ওই এলাকায় পেতে রাখা মাইন সরাবে কি না, কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেও অবাধে চলাচলের অনুমতি দেবে কি না—তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। সূত্রটি আরও জানায়, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না—এটাই হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের মূল বিষয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, এই প্রস্তাব তা নিরসনের প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রায় ২০০ জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন। কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সরাসরি সংলাপের স্থান ও সময়। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার এই বৈঠক ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে এমন দাবি সত্য নয় বলেও দাবি মার্কিন প্রশাসনের।

শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার মধ্যেই ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলের সাথে যুক্ত দুই ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সাফ জানিয়েছেন, ইরানের তেল চোরাচালান ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এমন কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের তেলে নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরাইলের অবস্থান। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক নির্দেশনায় আপাতত যুদ্ধবিরতি পালন করলেও আলোচনার প্রতিটি মোড় পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো মুহূর্তেই আবারও ইরানে শক্তিশালী এবং দ্রুত হামলা শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত আইডিএফ।