Logo
×

বিশ্ব

মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন। তার সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও রয়েছেন। খবর দ্য ডনের।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ সংস্থা (আইএসপিআর)। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান জানায়, ইসলামাবাদে সপ্তাহান্তে ফলহীন আলোচনার পরও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, রোববার তেহরানে ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একাধিক বার্তা বিনিময় হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল তেহরানে আসার সম্ভাবনা ছিল। বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষেত্রে ইরানের অধিকার অবিসংবাদিত, যদিও এর মাত্রা নিয়ে আলোচনা সম্ভব। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার কোনো চাপ বা যুদ্ধের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া যাবে না। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি অযৌক্তিক ও অবাস্তব বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে আবার শুরু হতে পারে এবং তা পাকিস্তানেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার ভূমিকার কারণেই পাকিস্তানে আলোচনা ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা ইউরোপের কোথাও হতে পারে। তবে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ও রোববার প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। গত সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, চলমান সংকট সমাধানে পূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর থাকলেও অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো সমাধানে কাজ চলছে। এর আগে, গত ৮ এপ্রিল কয়েক সপ্তাহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তার মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল। যদিও এটি এখনো বহাল রয়েছে, তবে পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।