মিয়ানমারের
রাখাইন প্রদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি
করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। একের
পর এক এলাকা দখলের
পর এবার পুরো প্রদেশ
নিয়ন্ত্রণে নেয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। তাদের
দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন সম্ভব। আর এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির চলমান
সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে
যেতে পারে। খবর মিয়ানমার নাউ
আরাকান
আর্মি (এএ) জানিয়েছে, তারা
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাখাইন
প্রদেশে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে। সংগঠনটির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল টুয়ান
ম্রাত নাইং গত শুক্রবার
(১০ এপ্রিল) আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
আরাকান
আর্মি ইতোমধ্যেই রাখাইন প্রদেশের ১৪টি টাউনশিপ এবং
দক্ষিণ চিন প্রদেশের পালেৎওয়া
টাউনশিপ দখলে নিয়েছে। ২০২৩
সালের শেষ দিক থেকে
চালানো বিভিন্ন অভিযানে এসব এলাকা দখলে
নিয়েছে তারা। বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের মাত্র তিনটি টাউনশিপ অর্থাৎ রাজধানী সিট্যুয়ে, কিয়াউকফিউ এবং মানাউং এখনও
জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
টুয়ান
ম্রাত নাইং বলেন, ‘আমরা
পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রয়োজনীয় সব
কাজ চালিয়ে যাব’। তিনি
আরও জানান, মিয়ানমারের দমনমূলক সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে
আরকান আর্মি।
মিয়ানমার
নাউ বলছে, ২০২৩ সালের ১৩
নভেম্বর রাখাইন প্রদেশে অভিযান শুরু করে আরাকান
আর্মি। এর কয়েক সপ্তাহ
আগে তাদের মিত্র সংগঠন ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স উত্তর শান প্রদেশে ‘অপারেশন
১০২৭’ শুরু করেছিল।
এরপর
থেকে আরাকান আর্মি শুধু সামরিক সাফল্যই
অর্জন করেনি, নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তুলেছে। সেখানে
আদালত, স্কুল এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও
চালু করেছে তারা। তবে জান্তা সরকারের
অব্যাহত বিমান ও নৌ হামলার
কারণে প্রদেশটির অনেক এলাকায় এখনও
বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
ব্রাদারহুড
অ্যালায়েন্সের অন্য দুই সংগঠন
অর্থাৎ মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তা’আং
ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মিও আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে।
এছাড়া
ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট, কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিয়িদাউংসু হ্লুটাও এবং চিন ব্রাদারহুড
অ্যালায়েন্স, বামার পিপলস লিবারেশন আর্মি ও স্টুডেন্ট আর্মড
ফোর্সসহ ৪০টির বেশি সশস্ত্র প্রতিরোধ
গোষ্ঠী এএ-এর গত
১৭ বছরের অগ্রগতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
তাদের
বার্তায় বলা হয়েছে, আরাকান
আর্মি ও রাখাইন জনগণের
অর্জন দৃঢ় সংকল্প, ত্যাগ
ও ঐক্যের ফল এবং এটি
মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জন্য একটি উদাহরণ।
আরাকান
আর্মি ২০০৯ সালের ১০
এপ্রিল মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী লাইজায়
প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি কাচিন
ইন্ডিপেনডেন্স আর্মিরও সদর দপ্তর। শুরুতে
মাত্র ২৬ জন সদস্য
ও একটি অস্ত্র নিয়ে
যাত্রা শুরু করেছিল সংগঠনটি।

logo-2-1757314069.png)
