Logo
×

বিশ্ব

বল এখন ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’, বলছে ইরান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯

বল এখন ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’, বলছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান। এর জন্য ওয়াশিংটনের উচ্চাভিলাষী শর্ত এবং ভুল হিসাবকে দায়ী করেছে তেহরান।

রোববার (১২ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আলোচনার ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’ এবং ইরান কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। সূত্রটি জানায়, ‘আলোচনায় যৌক্তিক উদ্যোগ ও প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এখন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বিষয়গুলো বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করা।’

তাসনিম নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় সে ভুল হিসাব করেছে, আলোচনার টেবিলেও একই ভুল করেছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরান কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। সম্ভাব্য পরবর্তী দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ বা স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে দীর্ঘ আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলেনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে জানান ভ্যান্স। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। তবে সেটা এখনো প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে। ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।