মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত, মস্কোতে জরুরি অস্ত্রোপচার!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫
ইরানের
নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর
পায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য মস্কোতে নিয়ে
যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে
কুয়েতি সংবাদমাধ্যম।
তেহরানে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি
বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত
হওয়ার পর তার ছেলে
মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয়
নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা
হয়েছিল, ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। তেহরানের
সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে
তিনি কোমায় আছেন।
এরই
মধ্যে কুয়েতের আল জারিদার এক
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে,
মোজতবার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট
ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্যোগে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে রাশিয়ায়
নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিবেদনে
দাবি করা হয়, দেশ
থেকে নতুন আয়াতুল্লাহকে বের
করার মিশনটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়।
একটি রুশ সামরিক বিমানে
তাকে মস্কো পাঠানো হয়।
আল
জারিদার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল
জানায়, মোজতবা খামেনিকে পুতিনের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে
রাখা হয়েছে। সেখানেই তার পায়ে ‘সফল’
অস্ত্রোপচার করা হয়।
ইরানের
নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ এক ‘উচ্চপদস্থ সূত্র’
এ তথ্য পাওয়ার দাবি
করেছে আল-জারিদা।
সূত্রটি
জানায়, আমেরিকার অপারেশন এপিক ফিউরির শুরুতেই
মোজতবা খামেনি আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মধ্যে ইরানে তার সুচিকিৎসা করা
সম্ভব হচ্ছিল না।
ইরানের
আরেকটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে জানায়,
মোজতবা খামেনির একটি অথবা দুটি
পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
তার যকৃত এবং পাকস্থলীও
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তিনি কোমায় আছেন।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানায়,
নতুন সর্বোচ্চ নেতার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন ইরানের অন্যতম
শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি।
এদিকে
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক
সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার ধারণা মোজতবা
আহত হয়েছেন। হেগসেথ বলেন, ‘আমরা জানি নতুন
সর্বোচ্চ আহত এবং সম্ভবত
অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন।’
ইরানের
কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত নতুন
নেতা আহত হওয়ার তথ্য
স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে
বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
এক কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন,
‘মোজতবা খামেনির বিষয়ে কেউ কিছু জানেন
না। তিনি জীবিত নাকি
মৃত সে বিষয়েও কোনো
সুনির্দিষ্ট তথ্য কারো কাছে
নেই।’
ওই
কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমাদের
শুধু বলা হয়েছে তিনি
আহত। তিনি এখানে নেই,
তাই যুদ্ধের ওপর তার কোনো
নিয়ন্ত্রণ নেই। অধিকাংশ কমান্ডারই
তার বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন
না।’

logo-2-1757314069.png)
