Logo
×

বিশ্ব

সম্পর্কের বরফ গলছে: দিল্লিতে পুনরায় ভিসা কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৭

সম্পর্কের বরফ গলছে: দিল্লিতে পুনরায় ভিসা কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশের

দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুনরায় ভিসা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আজ ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের বাংলাদেশি ভিসা ও কনস্যুলার সেবা চালু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

বাংলাদেশ হাই কমিশনের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকেই ভারতীয়দের জন্য পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা আবেদন গ্রহণ এবং ইস্যু কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল—বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। সিলেটে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস সাংবাদিকদের বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরে আসবে। গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও ঢিল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)-এর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর পরদিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।

নির্বাচনের পর কূটনৈতিক অগ্রগতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে নরেন্দ্র মোদি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। ফল ঘোষণার পর দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথন হয়, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকার পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা পুনর্গঠনের বাস্তব পদক্ষেপ। বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এখন দুই দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা—শিগগিরই ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে পারস্পরিক যাতায়াত আগের মতো সহজ হবে।