বিশ্বকাপে জায়গা পেতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন নেইমার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৭
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। সম্প্রতি এক বছরের জন্য শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন তিনি। ক্লাব সতীর্থরা যখন ছুটিতে, তখন নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। লক্ষ্য একটাই সম্পূর্ণ ফিট হয়ে বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে জায়গা নিশ্চিত করা।
বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপি অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। কারণ, ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে শতভাগ ফিটনেসই একমাত্র শর্ত। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ফিটনেস ফিরে পেতে প্রতিদিনই আলাদা করে অনুশীলন করছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা।
নেইমার নিজেও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত নিজের শারীরিক উন্নতির আপডেট দিচ্ছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ফিজিক্যাল ট্রেনার রিকার্ডো রোসার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ব্যায়ামে ব্যস্ত তিনি। একটি ছবিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের সেলাইয়ের জায়গায় ব্যান্ডেজ স্পষ্ট দেখা যায়। তার মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছে, পুনর্বাসনের পথটা মোটেও সহজ নয়।
গত ২২ ডিসেম্বর হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করান নেইমার। এরপর থেকে তিনি সিটি রেই পেলে ট্রেনিং সেন্টার এবং সান্তোসের অধীন একটি কমিউনিটিতে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত জিমে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সপ্তাহ থেকে তিনি পুনর্বাসনের শেষ ধাপে প্রবেশ করেছেন। লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই সান্তোসের স্কোয়াডে ফেরার মতো প্রস্তুত হওয়া।
ধারণা করা হচ্ছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে শারীরিক ট্রানজিশন ট্রেনিং শুরু করবেন নেইমার, যেখানে পূর্ণমাত্রার শারীরিক চাপ থাকবে। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার প্রত্যাশাও রয়েছে তার। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। ৪ ফেব্রুয়ারি সাও পাওলোর বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচ দিয়ে তার প্রত্যাবর্তন হতে পারে, যদিও সেটা নির্ভর করবে বল নিয়ে অনুশীলন ও ম্যাচ-ফিটনেসের ওপর।
২০২৪ সালের শুরুতে ইনজুরির ধকল নিয়ে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছাড়ার পর সান্তোসে ফেরেন নেইমার। এরপর একাধিকবার চোটে পড়লেও গত মৌসুমের শেষ দিকে ঝুঁকি নিয়েই খেলেন তিনি। ইনজুরি নিয়েই মাঠে নেমে দলকে সেরি ‘এ’ থেকে রেলিগেশন এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড। তার সেই অবদানের কারণেই সান্তোস কর্তৃপক্ষ নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ধৈর্যশীল অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে চুক্তি নবায়নের অনিশ্চয়তাও কেটে গেছে।
এদিকে আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। তার আগে ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল গঠনের জন্য খুব বেশি সময় হাতে নেই কোচ কার্লো আনচেলত্তির। ধারণা করা হচ্ছে, মার্চে দুটি প্রীতি ম্যাচের পরই স্কোয়াড চূড়ান্ত করবেন তিনি।

logo-2-1757314069.png)
