Logo
×

খেলা

দ্বিতীয় দিন শেষে সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ

Icon

মেহেদী হাসান

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১৮:০৪

দ্বিতীয় দিন শেষে সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ব্যাট ও বল, দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে চাপে ফেলেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪৬ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড এখন ১৫৬ রান।


দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন মাহমুদুল হাসান জয়। ওপেনিংয়ে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।


ফিফটি করার পর ইনিংস বড় করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক শট খেলতে যান জয়। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আব্বাসর বলে আব্দুল্লাহ ফজলর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৬৪ বলে ১০টি চার মেরে ৫২ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

২২.১ ওভারে দলীয় শতক পার করে বাংলাদেশ। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক মিলে লিড আরও বাড়াতে থাকেন। তবে দিনের শেষদিকে খুররম শাহজাদর শিকার হন মুমিনুল। ৬০ বলে ৩০ রান করে ফিরেন তিনি। দিন শেষে ৩২ বলে ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন শান্ত।


এর আগে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট তুলে নেন।


দিনের শুরুতেই পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন তাসকিন। প্রথমে ফিরিয়ে দেন আব্দুল্লাহ ফজলকে, এরপর আজান আওয়াইজকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। অন্যপ্রান্তে মিরাজ শিকার করেন শান মাসুদ ও সাউদ শাকিলকে। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই চার উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে সফরকারীরা।


একপ্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাবর আজম। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩১তম টেস্ট অর্ধশতক। দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু বিরতির আগে নাহিদ রানার গতির ভিন্নতায় বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন বাবর। ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক।


বাবরের বিদায়ের পর পাকিস্তানের নিচের সারিকে দ্রুত গুটিয়ে দেন তাইজুল। সালমান আলী আঘা, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলীকে ফিরিয়ে বড় জুটি গড়ার সুযোগই দেননি তিনি। পরে চা বিরতির পর নাহিদ ফিরিয়ে দেন খুররম শাহজাদকে। শেষ ব্যাটার সাজিদ খানকে আউট করেই পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন এই তরুণ পেসার।


এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বড় লড়াইটা করেছিলেন লিটন কুমার দাস। শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক। ১২৬ রানের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও দুটি ছক্কা। তাঁর ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তোলে। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ নেন চারটি উইকেট, আর মোহাম্মদ আব্বাস শিকার করেন তিনটি।