বাংলাদেশের সেরা টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নাজমুল শান্ত
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ২২:২৮
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে নেতৃত্বের নতুন এক মানদণ্ড গড়ে দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাট হাতে রান, মাঠে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত আর চাপের মুহূর্তে সাহসী মানসিকতা, একজন সফল টেস্ট অধিনায়কের জন্য যা যা প্রয়োজন - মিরপুর টেস্টে যেন তার সবকিছুরই নিখুঁত প্রতিচ্ছবি দেখা গেল শান্তর মাঝে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শতক, দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক, দুই ইনিংসেই দলের ভরসার নাম ছিলেন তিনি। তবে শুধু ব্যাটিং নয়, ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনায় উঠে এসেছে তার অধিনায়কত্ব। ঝুঁকি নিয়েও সময়মতো ইনিংস ঘোষণা করার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত এনে দেয় ১০৪ রানের স্মরণীয় জয়।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার সালমান আলী আগা প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের ‘সাহস’ নিয়ে। তার মতে, বাংলাদেশ হয়তো ফল বের করার মতো ঝুঁকি নেবে না। কিন্তু পঞ্চম দিনের সকালে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সেই জবাবটা মাঠেই দিয়েছেন শান্ত। সেই সিদ্ধান্তেই পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ২৬৮ রানের লক্ষ্য, যা শেষ পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি সফরকারীরা। এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসেও নিজের নাম আরও উঁচুতে তুলেছেন শান্ত।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭ টেস্ট জয়ের রেকর্ড এতদিন এককভাবে ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। এবার সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন শান্তও। তবে পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছে সময়। মুশফিকের যেখানে ৭ জয় পেতে লেগেছিল ৩৪ ম্যাচ, শান্ত সেখানে একই সংখ্যক জয় তুলে নিয়েছেন মাত্র ১৭ টেস্টে। অর্থাৎ অর্ধেক ম্যাচ খেলেই বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়কের কাতারে পৌঁছে গেছেন তিনি বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কত্বের ইতিহাসে অন্যদের তুলনায়ও এগিয়ে আছেন শান্ত। সাকিব আল হাসানের অধীনে বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি টেস্ট, মুমিনুল হকের নেতৃত্বে ৩টি। এছাড়া হাবিবুল বাশার, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে জয়।
সেই হিসাবে জয়ের হার ও নেতৃত্বের প্রভাব, দুই দিক থেকেই শান্ত নিজেকে আলাদা করে তুলছেন তবে এই যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় তিন সংস্করণেই জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন শান্ত। পরে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব ছাড়েন, ওয়ানডে থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এমনকি ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজ চলাকালে হঠাৎ করেই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১২৬ দিন নেতৃত্বহীন অবস্থায় কাটে তার।
কিন্তু ভাগ্য যেন আবারও তাকে ফিরিয়ে আনে সেই জায়গাতেই। আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে বিসিবির অনুরোধে ফের টেস্ট নেতৃত্বে ফেরেন শান্ত। আর ফিরে এসেই যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি।

logo-2-1757314069.png)
