নাহিদের ফাইফারে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১৭:৫৫
সালমান আলী আগার ‘সাহস’ প্রসঙ্গের জবাবটা ব্যাটে-বলে দিল বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনে ঝুঁকি নিয়েই ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তই এনে দিল ইতিহাসগড়া জয়। পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানে জিতে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার সালমান আগা বলেছিলেন, বাংলাদেশ হয়তো এত বড় লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচের ফল বের করার ‘সাহস’ দেখাবে না। তবে শেষ দিনে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঠিক উল্টো বার্তাই দেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান।
মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের ইতিহাস ছিল না কোনো দলের। সেই রেকর্ড ভাঙতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারের শেষ বলে ইমাম উল হককে ফেরান তাসকিন আহমেদ। এরপর আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
আজান ১৫ রান করে বিদায় নিলে দ্রুত ফেরেন অধিনায়ক শান মাসুদও। তবে ফজল ও সালমান আগা চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আভাস দেন। সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ৬৬ রান করা ফজল এলবিডব্লিউ হলে আবার ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। একে একে সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলিকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের আরেকটি পাঁচ উইকেট শিকার পূর্ণ করেন এই পেসার। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানে।
এই জয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে গুরুত্বপূর্ণ ১২ পয়েন্ট যোগ হয়েছে বাংলাদেশের ঝুলিতে। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ রানের সেঞ্চুরি, মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানে ভর করে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের শতক এবং আব্দুল্লাহ ফজল, সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ফিফটিতে ৩৮৬ রান করে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২৪০ রান যোগ করে ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।
অন্যদিকে অধিনায়ক হিসেবে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট জয়ের রেকর্ডেও নাম তুলেছেন শান্ত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এটি সপ্তম টেস্ট জয়, যা মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডের সমান। তবে যেখানে মুশফিকের লেগেছিল ৩৪ ম্যাচ, শান্ত সেখানে কীর্তিটি ছুঁয়েছেন মাত্র ১৭ টেস্টেই।

logo-2-1757314069.png)
