বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে ক্রিকেটারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বিসিবি
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ২৩:২৮
২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ঘিরে ওঠা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগের তদন্তে বড় অগ্রগতি পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একজন ক্রিকেটারসহ অন্তত পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিবি। একই সঙ্গে আগের কয়েকটি আসরে দুর্নীতির অভিযোগে আরও একজনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বিপিএল ২০২৫ আসরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত তদন্তে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাজি ধরা, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন করা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার মতো অভিযোগ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন - লাবলুর রহমান, তৌহিদুল হক তৌহিদ, রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী, সামিনুর রহমান ও অমিত মজুমদার। তদন্ত চলাকালে তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির অভিযোগ অনুযায়ী, অমিত মজুমদার ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল ও বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বাজি ধরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও। অন্যদিকে লাবলুর রহমান ও তৌহিদুল হকের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমান–এর বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খেলোয়াড়দের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিবি। পরে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না নিয়ে শাস্তি মেনে নেন।
বিসিবি জানিয়েছে, পুরো তদন্ত পরিচালনা করেছে তাদের ইন্টিগ্রিটি ইউনিট। বিপিএল চলাকালেই ওঠা অভিযোগের পর তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কমিটি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদন পরবর্তীতে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল–এর কাছে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিপিএলের ২০২৫ আসর চলাকালে ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

logo-2-1757314069.png)
