শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩৩ রান, হাতে স্রেফ ১ উইকেট। ৪৯তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের পেসার ন্যাথান স্মিথের করা প্রথম বলে ছক্কা মেরে ব্যক্তিগত ফিফটির পাশাপাশি দলের আশা বাঁচিয়ে রাখেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু এর এক বল পরেই হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। তাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হেনরি নিকোলস ও ড্যান ফক্সক্রফটের ফিফটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটির পরও ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ২১ রানের মাথায় তানজিদ হাসান তামিম (২) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (০) আউট হন। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সাইফ ও লিটন। ৯৩ রানের জুটি গড়ার পথে সাইফ পঞ্চাশ ছুঁলেও তার পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খান লিটন। সাইফ ৭৬ বলে ৫৫ ও লিটন ৬৮ বলে ৪৬ রান করেন লিটন।
এ দুজনের বিদায়ের পর হৃদয় ও আফিফ হোসেনের জুটিতে জয়ের পথে ছুটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে তাদের ৭৯ বলে ৫২ রানের জুটি ভাঙার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। টিকনার ৪১তম ওভারে আফিফকে ২৭ রানে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ বানান। তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৭ বলে ৬৪ রান, হাতে ৫ উইকেট।
দুই ওভার পর টিকনার বল নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে থামান মাত্র ৪ রানে। টম ল্যাথামের ক্যাচ হন মিরাজ। এই পেসার তার পরের ওভারের শেষ তিন বলে রিশাদ হোসেন (৪) ও শরিফুল ইসলামকে খালি হাতে আউট করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। চার ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হারানোর পর সেই চাপ আর নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।
বরং টিকনারের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ (২) বিদায় নেন। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয় ছক্কা মেরে ফিফটি করলেও দুই বল পর তাকে সাজঘরে ফিরতে হয় নিকলসের ক্যাচ হয়ে। স্মিথ তাকে ফেরান ৫৫ রানে। ৬০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি করে চার ও ছয়। টিকনারের সঙ্গে স্মিথ তিনটি উইকেট নিয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।
এর আগে, টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথাম। ব্যাটিংয়ে নেমে সপ্তম ওভারে ওপেনার নিক ক্যালিকে হারায় কিউইরা। শরিফুল ইসলামের করা বলে ব্যক্তিগত ৭ রান করে আউট হন ক্যালি। দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নেমে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং। এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৪২ বল থেকে ৩০ রান করেন ইয়াং।
এরপর ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দলনেতা টম লাথাম। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৫ বলে ৯ রান করেন তিনি। এদিকে আপনতালে খেলতে থাকা ওপেনার হেনরি নিকোলস ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন। তার ইনিংস থামে ৬৮ রানে। রিশাদ হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন তিনি। ৮৩ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি নয়টি চারে সাজানো। এরপর মাত্র ৮ রানে আউট হন জশ ক্লার্কসন।
হুট করেই নিউজিল্যান্ড খেই হারিয়ে ফেললেও ক্রিজে খুঁটি গেড়ে ব্যাট করতে থাকেন ড্যান ফক্সক্রফট। ৫২ বলে ফিফটি পূরণ করেন তিনি। তার ইনিংস থামে ৫৯ রানে। ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি আটটি চারে সাজানো। এছাড়া ব্লাইর টিকনার ৭, নাথান স্মিথ ২০ ও লেনক্স ১ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।

logo-2-1757314069.png)
