Logo
×

খেলা

যেসব অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হলো আমিনুলের বোর্ড

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৪

যেসব অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হলো আমিনুলের বোর্ড

দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।

বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার পরই এমন সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত চিত্র পাওয়া গেছে সেখানে। বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য সেই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

(১) কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রথমে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নির্ধারণ করা হলেও কয়েক দফা পরিবর্তনের ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে। সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে যে, এই সময়সীমা যথাযথ কারণ ছাড়াই এবং গোপন উদ্দেশ্যে বাড়ানো হয়েছিল, যাতে পূর্বে মনোনীত কাউন্সিলরদের পরিবর্তন করে পছন্দসই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।

 (২) অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর নাম পুনঃপ্রেরণের নির্দেশ বিসিবি জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোকে অ্যাড হক কমিটি থেকে পুনরায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্নভাবে জেলা সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করে। এছাড়া তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একান্ত সচিব মি. সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন, যা বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস হোসনা আফরোজা এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস ফারিদা খানমের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়।

 (৩) নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ জেলা/বিভাগীয় সভাপতিদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে, বিশেষ করে এনএসসি কর্মকর্তারা এবং তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একান্ত সচিব সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এটি ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।

(৪) অ্যাডহক কমিটির বৈধতা অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, যদিও তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী, এসব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা। অ্যাডহক কমিটি বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কমিটি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

(৫) নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়নি নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং একাধিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ছয়টি জেলার ভোটার ছিল না, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকায় ঐ ছয়টি জেলার মধ্যে পাঁচটি জেলার ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

(৬) ক্যাটাগরি ১-এ প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা অ্যাডহক কমিটির গঠন পরিবর্তন করে দুই জন নতুন সদস্য যোগ করা হয়, ফলে সদস্য সংখ্যা সাত থেকে বৃদ্ধি পেয়ে নয় জনে দাঁড়ায়। একই দিনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাড হক কমিটিতেও চার জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়, ফলে সদস্য সংখ্যা সাত থেকে ১১ জনে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে রংপুর বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি ১১ সদস্য নিয়ে অনুমোদিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী, অ্যাডহক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন হওয়ার কথা। কমিটির মতে, আসন্ন বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সরকার এনএসসির মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাব খাটিয়েছে, যাতে তাদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে পারে।


(৭) সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপ একাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি দেখতে পায় যে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার পিএস সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্য পরিবর্তন এবং তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছেন। কমিটির মতে, এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে। তবে দুঃখজনকভাবে, তাদের প্রকৃত অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তারা কেউই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।


(৮) ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি বিসিবি সভাপতি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তার পিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কমিটি আরও লক্ষ্য করে যে, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কাউন্সিলরা মতামত দেন যে, ই-ভোটিং পদ্ধতিটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

(৯) নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান নির্দিষ্ট স্থান থেকে ই-ভোট প্রদান করা হয়েছে এবং এতে ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি, যা মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিসিবি সংবিধানের পরিপন্থী। আবার এদের অধিকাংশ ভোটারই ই-ভোটার শারীরিক ভোটগ্রহণের দিনেও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি ভোট প্রদানের সুযোগ থাকলেও রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ৫ তারিখ রাতে এক জায়গায় জড়ো হয়েই ভোট দেওয়া এবং এর প্রক্রিয়া কমিটির কাছে ভোটে কারসাজি মনে হয়েছে।

(১০) অ্যাডহক কমিটিতে বুলবুল ও ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করতে অযৌক্তিক প্রভাব ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসি কর্মকর্তাদের সহায়তায় ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা বিভাগ এবং ঢাকা জেলার অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে তারা কাউন্সিলর পদ নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে পারেন। এটি ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষপাত এবং প্রভাব প্রতিফলিত করে, যারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং তাদের বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে সহায়তা করেছে। এটি গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহার।

(১১) নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত বা স্বচ্ছ ছিল না।

১২) নির্বাচনে কারচুপি মেট্রোপলিটন ক্লাবের আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে কারচুপি করা হয়েছে, যা বিসিবি নির্বাচনের সততা ক্ষুণ্ণ করেছে। ক্লাব কাউন্সিলরদের বক্তব্যের ভিত্তিতে, কমিটি আরও দেখেছে যে নির্বাচনের সময় হুমকি প্রদান ও বেআইনি ভাবে জবরদস্তি করা হয়েছিল।

(১৩) ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার কাউন্সিলরদের ই-ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং তাদের হোটেল শেরাটন, বনানীতে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল যেখানে বিসিবির বর্তমান সহ-সভাপতি মো. শাখাওয়াত, যিনি কিনা ঐ হোটেলের একজন স্টেক হোল্ডার। কাউন্সিলরদের ভোট দিতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। কমিটি আরও দেখতে পায় যে, ই-ভোটিং সিস্টেমটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

(১৪) সময়সীমার পরে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন গ্রহণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বিবৃতির অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত কাউন্সিলর তালিকা পেয়েছিল, যদিও নির্ধারিত সময় ছিল ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। তবে, নির্বাচন কমিশন তালিকা সময়ের পরে জমা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেনি। অন্যদিকে, বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী তার লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বোর্ডের অনুমোদনের পরে, বিসিবি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কাউন্সিলর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। এছাড়াও, এক সাক্ষাৎকারে ফাহিম সিনহা দাবি করেছেন যে কিছু পরিচালক ফারুক আহমেদের মনোনয়ন ফর্ম গ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। পুনরাবৃত্ত অনুরোধের পরেও কমিটি উক্ত সভার কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পাননি। এই বিপরীত বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে এবং বিসিরি কমিটি মনে করে যে ফারুক আহমেদ একটি বেআইনি সুবিধা পেয়েছেন, যা নির্বাচন কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

 (১৫) পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা কমিটি দেখতে পায় যে, তখনকার স্পোর্টস অ্যাডভাইজারের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ, ভোটার তালিকার আগাম প্রবেশাধিকার, বেআইনি প্রচারণা সহায়তা।

 (১৬) নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানের জন্য প্রভাবিত করা কমিটি দেখতে পায় যে, ই-ভোটারদের ভোট নির্দিষ্ট স্থানে দিতে নির্দেশিত করা হয়েছিল, যা ভোট প্রদানের গোপনীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে।


(১৭) ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা কমিটি দেখতে পায় যে ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মূল নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এই কার্যক্রম ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাকে ক্ষুন্ন করেছে।

 (১৮) সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ অনুপযুক্ত সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বাচ্ছতার অভাব ছিল, ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল, এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।

 (১৯) বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন এই তদন্তে সনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো হাং সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা প্রার্থীদের সমান সুযোগ, এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান।

 (২০) নমিনেশনের আগে বোর্ড সভা ডাকা হয়নি বিসিবি বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের ২১তম বৈঠকে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল এবং বোর্ডের পরিচালকরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজেই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে পারেন। তবে, অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকরা তাদের বক্তব্যে এই দাবিটি অস্বীকার করেছেন। এই প্রসঙ্গে, কমিটি সিইওকে বোর্ড বৈঠকের অডিও/ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে অনুরোধ করেছিল, যা এখনও প্রদান করা হয়নি। এর বিপরীতে, সিইও ৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি ইমেইলের মাধ্যমে বোর্ড সভার অডিও/ভিডিও রেকর্ড সরবরাহের জন্য তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন, যা কমিটি অযৌক্তিক এবং অসহযোগী মনে করছে। তাই, কমিটি বিশ্বাস করে যে বিসিবি কমিটিকে অডিও/ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয়। সুতরাং, বোর্ড অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি যথাযথ ভিত্তি সম্পন্ন।

(২১) বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্ষমতার বাইরে কাজ আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী (সিইও), এবং অন্যান্য পরিচালকরা বিসিবি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বিবৃতিতে সংঘর্ষপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। এছাড়াও, কমিটি উক্ত বৈঠকের কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পাননি, যদিও বিসিবি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। অতএব, অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকদের বিবৃতির ভিত্তিতে, কমিটি অনুমান করছে যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যথাযষভাবে অনুমোদিত ছিলেন না। এছাড়াও, বিসিবি সংবিধানের আর্টিকেল ৯৩.৩ অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং, বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি সুস্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সংবিধানের লঙ্ঘন।

 (২২) মনোনয়নের নির্বাচন প্রভাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন করা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি ওই কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করেছেন এবং সম্ভাব্যভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন।

(২৩) বিসিবি সংবিধানের অপ্রতুলতা প্রাপ্তি বিসিবি সংবিধান মৌলিকভাবে যথেষ্ট নয় যাতে স্বাধীন, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়। সংবিধানের কাঠামোগত দুর্বলতা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যেখানে সনাক্তকৃত অনিয়মগুলো ঘটতে সুযোগ পেয়েছে।

(২৪) বিসিবি নির্বাচন নিয়মের অসম্পূর্ণতাপ্রাপ্তি নির্বাচন নিয়ম ২০২৫ অসম্পূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত। ই-ভোটিং, স্বাধীন তত্ত্বাবধান এবং ব্যালট গোপনীয়তার জন্য কোনো ধারা না থাকায় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অপব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।