গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের আকুতি শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৫
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে স্বজনরা তুলে ধরেছেন গুমের শিকার হওয়া তাদের সেই প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি। কেউ জানাচ্ছিলেন স্বামীকে হারিয়ে কী দুঃসহ জীবন কাটছে তাদের। কোনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতরণা হয়।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম হওয়া এক বাবার কন্যা শাফা বলে, “আমার বাবাকে যখন গুম করা হয়, তখন আবার বয়স ছিল দুই মাস, এখন আমার বয়স ১৩ বছর। বাবার মুখটা আমি দেখতে পাইনি। বাবার ছবিটা ধরে অনেক জায়গায় গিয়েছি, খোঁজ পাইনি। বাবার সঙ্গে আমার কোনো স্মৃতি নেই। আমরা আমার বাবাকে ফেরত চাই— এই কথাটা অনেকবার বলেছি কিন্তু ফেরত পাইনি।” গুম হওয়া ব্যক্তি পারভেজের ছেলে রাতুল এসে বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে বাবার চাচাকে একসঙ্গে র্যাব তুলে নিয়ে যায়। আজ ১২ বছর পার হয়ে ১৩ বছরে পড়ল, আজ পর্যন্ত আমরা কোনো সন্ধান পাইনি। ১৩ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াই।
এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে যাইনি। আমরা কি কেউ এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? জনাব তারেক রহমানের কাছে আমি অনুরোধ করব, আগামীতে যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেন, গুম-খুনের জন্য এমন একটা আইন করবেন, পরবর্তীতে কেউ যেন এই গুমের মতো জঘন্য কাজ করার সাহস পায় না।” গুমের শিকার আরেকজনের কন্যা লামিয়া বলেন, “২০১৩ সালে ৪ ডিসেম্বর আমার বাবাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৩ বছর হয়ে গেছে আমি আমার বাবাকে দেখি না, বাবা কী জিনিস বুঝি না। আমার বাবাকে যখন নিয়ে যায়, তখন আমার ৩ বছর বয়স ছিল, আমি তখন বাবা মানেটাও বুঝতাম না। আমি যদি বুঝতাম আমার বাবাকে হারিয়ে ফেলব, তাহলে আমি আমার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতাম। আমি আমার বাবাকে আর কখনো পাব কি না, জানি না। আমি আমার বাবাকে পেতে চাই।”
নিহত ওলীর স্ত্রী এসে জানান, তার স্বামীকে মেরে ফেলার আগে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্বামী ছাড়া কীভাবে তিনি সন্তানদের নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন সেসব বর্ণনা দিতে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এই ভুক্তভোগী। গুমের শিকার পারভেজ হোসেনের কন্যা হৃদি গুম কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “গুম কমিশন বলে— ধরে নিন ওরা গুম, ওরা মৃত। কেন এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোনো অপরাধ না। দল সবাই করে। এর জন্য এটা কেমন বিচার এই বাংলাদেশে? আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি যে, আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এই বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করবেন এই গুমের।” গুমের শিকার পরিবারের এই সদস্যদের বক্তব্যের এসব কান্নাজড়িত আকুতি শুনে একপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।
এসব ভুক্তভোগীরা বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান, পাশাপাশি সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তারা। এ সময় তাদের সকলেরই আকাঙ্ক্ষা ছিল একবার তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখে তাদের কষ্টের কথাগুলো ব্যক্তিগতভাবে জানানো। কাউকে কাউকে মঞ্চে বসা তারেক রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কিছু সময় কথা বলেন।

logo-2-1757314069.png)
