মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত সবার জন্য দরজা খোলা : অ্যাডভোকেট জুবায়ের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৯
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি আছে। এমনকি নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী ঐক্যের কাঠামো নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। সে কারণেই এখানে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রাখা হয়নি। ‘‘জোট হলে কাঠামো থাকত। এখানে তা হয়নি। এখানে ‘বাই রোটেশন’ পদ্ধতিতে সবাই বক্তব্য রেখেছেন। এটাকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ বলা যায়,” বলেন তিনি।
৫ দফা দাবি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াতের এ নেতা বলেন, এই দাবিগুলো বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত দাবি ছিল না। ‘পাঁচ দফা দাবি আমরা বলেছি, অন্যরাও বলেছে। আমাদের কর্মসূচি ও অবস্থান সবার কাছেই পরিষ্কার,’ বলেন জুবায়ের। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াতের এ নেতা বলেন, বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আবেগী বক্তব্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আবার আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্ধারিত একটি বৈঠক না হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যায় জুবায়ের বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি মানবিক ভুল। সংশ্লিষ্ট নেতা অসুস্থ থাকায় বৈঠকের বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে। ‘মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এখানে কোনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অসম্মানের প্রশ্ন নেই,’ বলেন তিনি। আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, জোটের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। এসব আসনের কিছু ইসলামী আন্দোলনের জন্য এবং কিছু অন্যান্য শরিক দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এসব আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি। জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়, তাহলে তারা এককভাবে নয়, বরং সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে। ‘এটা আমাদের ডিক্লেয়ারড পজিশন,’ বলেন তিনি। অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, দল বা জোটের গঠন যাই হোক না কেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘আমরা ৩০০ আসনেই থাকব। ৩০০ আসনেই প্রার্থী থাকবে,’ বলেন তিনি।

logo-2-1757314069.png)
