প্রতিহিংসা বর্জন ও জনকল্যাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭
যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার রাতে দলের দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান শনিবার দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।"
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন- ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা… একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিণী বা একজন হাউসওয়াইফ এটা পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়…৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। সেটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।
‘সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সব মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু করতে যাচ্ছি।’ আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জবাবদিহিটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক, লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যদি কন্টিনিউ করতে পারি, অনেক বেগ হয়ত আসবে, অনেক কঠিন হবে কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পরে আমরা যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।
‘আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি’
তারেক রহমান বলেন, ‘কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আঘাত করতে চাইছি না … আমি আমার চিন্তাটা শুধু ওনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ… সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সব সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়া, প্রয়োজনগুলো সেটি নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দা সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না…. এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত। এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।
‘নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি’
তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।
‘আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই’
তারেক বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা পাই যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।

logo-2-1757314069.png)
