Logo
×

রাজনীতি

মামলা ‘হোল্ড’ রাখার নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ ইবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:২১

মামলা ‘হোল্ড’ রাখার নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ ইবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা শুরু হয়। অডিওতে ছাত্রদল নেতা এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলার তালিকায় থাকা নাম ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করেন। 


জানা যায়, অডিওটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের। ফাঁস হওয়া অডিওতে আবু সাঈদ রনিকে মামলার তালিকায় ভুক্তভোগীর নাম থাকার বিষয়ে জানাতে এবং অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ‘হোল্ড’ রাখার প্রস্তাব দিতে শোনা যায়। কথোপকথনে অভিযুক্ত রনি 'রাজনৈতিক কারণেই ভুক্তভোগীর নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে' বলে দাবি করেন। এসময় ভুক্তভোগী অল্প সময়ের জন্য রাজনৈতিক পদে ছিলেন বলে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “তুই পদ কখন পাইছিস কী না পাইছিস, সেটা তো আর ওরা (শিবির-সমন্বয়ক) দেখেনি।”


এদিকে দাবীকৃত চাঁদার বাটোয়ারার প্রসঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের একটি অংশে ওই নেতা বলেন, "সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও, সব জায়গায় টুকটাক যাবে। তুই কত কি দিতে পারবি সেটা আমারে একটু ইনস্ট্যান্ট জানা। আমি তাইলে সেইভাবে ভাইয়ের কাছে বলি, ঠিক আছে? ভাইয়ের কাছে বলে আমি আপাতত তোর জিনিসটা হোল্ডে রাখি।


ফোনালাপে শিবির ও সমন্বয়কদের মাধ্যমে মামলা দেওয়া হলেও ছাত্রদল বিষয়টি সমন্বয়ের চেষ্টা করছে বলে জানান ওই ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী নেতা। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন না হলে বা নির্বাচন না এলে এসব ‘কেস-কামারি’ (মামলা-মোকদ্দমা)  হতো না। এছাড়াও তাকে “ছাত্রদল-ছাত্রলীগ একসাথেই তো ক্যাম্পাসে সব ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই।” মন্তব্য করতেও শোনা যায়।


অডিওতে আরও শোনা যায়, অভিযুক্ত রনির পরামর্শে ভুক্তভোগী তার ভাতিজাকে ইবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুনের সঙ্গে কথা বলতে পাঠান। রনি বলেন, কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, ৩০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার টাকা নিয়েও বিষয়গুলো ম্যানেজ করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীর আর্থিক সচ্ছলতার কারণে তার কাছে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মামলা থাকলে বিদেশ যাত্রা ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনেও জটিলতা হতে পারে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখাতেও শোনা যায় তাকে।


এদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেই ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী নেতা আবু সাঈদ রনি। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরাও জানেন, আমি কখনো কারও কাছ থেকে ন্যূনতম চা খাওয়ার টাকাও নেইনি। সেখানে আমার নামে এমন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নিউজ করা হচ্ছে। সামনে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, অডিওটি এডিটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ভয়েস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “আগের একটি নাম্বার যেটা দীর্ঘদিন আগে থেকেই আমি ব্যবহার করি না। সেখানে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সন্দেহজনক মেসেজ আসত। কীভাবে হ্যাক বা অপব্যবহার হয়েছে, সেটা আমি জানি না। এজন্য আমি ওই হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি।


শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই আমরা ওপেনলি বলে দিয়েছিলাম, আমাদের কোনো নোংরা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। কেউ যদি আমাদের নাম ভাঙায়, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাধতে হবে। তারপরও কেউ কোথাও কোনো অপকর্ম করলে সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে কোনো ব্যক্তি ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যদি কোথাও গিয়ে বলে ‘ভাই পাঠাইছে’, সেটার ভিত্তি বা ডকুমেন্টস কী? শুধু বললেই তো প্রমাণ হয় না। আমি যদি কাউকে পাঠাতাম, তাহলে সে সরাসরি আমার সঙ্গেই কথা বলত। এতদিন কিছু হয়নি, এখন দেড়-দুই বছর পর এসব অভিযোগ কেন আসছে? ভুক্তভোগীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয়ে কেউ আমার কাছে কখনো আসেনি, ফোনও করেনি।


এদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।