Logo
×

রাজনীতি

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ বিলে সংশোধনী, ‘রাজনৈতিক জোচ্চুরি’র অভিযোগ বিরোধীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ বিলে সংশোধনী, ‘রাজনৈতিক জোচ্চুরি’র অভিযোগ বিরোধীদের

রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য ভঙ্গ করে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল-২০২৬’ ছলচাতুরী ও জোচ্চুরির মাধ্যমে সরকার পাস করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের পর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কড়া প্রতিবাদ জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গৃহীত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল ঐকমত্য পোষণ করেছিল যে, এগুলো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে বিল আকারে পাস হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করে সরকার এই বিলে সংশোধনী এনেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৯৮টি বিলে কোনো প্রশ্ন তুলব না। কিন্তু সরকার পক্ষ আজ আমাদের সামনে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করল। যদি নিজেদের মেজরিটি আছে বলে যা খুশি তাই করতে হয়, তবে এই বিশেষ কমিটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ তিনি এই ঘটনাকে ‘সংসদীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত’ এবং ‘জোচ্চুরি’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বিলের সংশোধনী অনুযায়ী, জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী। আগে যেখানে একজন বিশেষজ্ঞকে সভাপতি করার বিধান ছিল, সেখানে মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিকে ‘দলীয়করণের ধারাবাহিকতা’ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি বাংলাদেশ ব্যাংক, স্থানীয় সরকার, এমনকি ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ করা হয়েছে। এখন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকেও সেই একই পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি কোনো সাধারণ শাখা জাদুঘর নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে বিশেষজ্ঞের বদলে মন্ত্রীকে বসানো রেওয়াজ ভঙ্গ করার শামিল।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই জাদুঘরটি গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষের অংশীদারিত্বের স্মারক। কিন্তু সরকার এখন সংশোধনী এনে যে কাউকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রাখছে, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থি। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই সংশোধনী বাদ দিয়ে আগের ঐকমত্য অনুযায়ী বিলটি পুনরায় বিবেচনা করা না হয়, তবে সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণের আর কোনো অর্থ থাকে না। উল্লেখ্য, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখেই তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।