সরকারি দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে: বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধী দলের ওয়াকআউট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২৬
সরকারি দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ১২ ফেব্রুয়ারি ১৩৩টি জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলো পাস করার নিয়ম রয়েছে।
এগুলো নিয়ে স্পিকার সরকার দলীয় এমপি জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়, যাতে বিরোধীদলের সদস্যও ছিল। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্য ছাড়াই প্রথম মিটিংয়ে সরকার দলীয় সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে সবগুলো অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। শুক্রবারও সংসদ বসেছে। আজ শেষ দিন ছিল। আমরা সবগুলোর বিলের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, পিএসসি কমিশনসহ অনেকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করে ল্যাপস করে দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে পরে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু তারা আজকের সংসদেই যখন এগুলো উপস্থাপন করল না, তখন তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাদের ওপর আমাদের আর আস্থা নেই। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছেন তিনিও সংশোধনী বিষয়ে আগে জানেন না। তাহলে কে জানে? তাহলে কোন জায়গা থেকে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিলের ব্যাপারে অন্তত একদিন আগে কাগজপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের সংসদে বসে একের পর এক বস্তা বস্তা কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পড়ে দেখারও সময় পাইনি। তাহলে আমরা কীভাবে মতামত দেব? তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে যেগুলো তাদের পক্ষে যায়, সেটি তারা পাস করছে। জাতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের ক্যাপ্টেনের হাতে ড. মুহাম্মদ ইউনুস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি ওখানেই দিয়ে থাকেন, তাহলে কিসের নির্বাচন? তাহলে তো নির্বাচনের ভাগ্য যোগাযোগ করে অন্তরালে ঠিক করে জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে অনেক সরকার নিজেরাই এ ধরনের অনেক বিল পাত্তা দেয়নি, পরে আবার নিজেরাই সেই বিষয়টি সংসদে আনতে বাধ্য হয়েছে। সরকারও একসময় সঠিক জায়গায় আসবে-এ আশা করি। অতীতে এভাবে অনেকে আসতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জাতির অধিকারের বিষয়ে চুল পরিমাণ ছাড় দেব না। সংসদে সুবিচার পাইনি। রাজপথে জনগণকে নিয়ে এই দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। সব দাবি আদায় হবে। এজন্য যত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তা আমরা করব। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা সবগুলো বিল সংশোধনে আনেনি। নির্ধারিত সময় শেষ করে দেওয়ার অপকৌশল নিয়েছে তারা। এজন্যই আমরা ওয়াকআউট করেছি। এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। আমরা সম্পূর্ণ সময় থাকার চেষ্টা করেও পারিনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিলে পরিণত করাসহ অনেকগুলো বিষয়ে বিএনপি সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। জুলাই স্মৃতি যাদুঘর বিল আইনে পরিণত করা নিয়েও ওয়াদা ভঙ্গ হয়েছে। ৯৮টি অধ্যাদেশ ছিল, যেগুলো নিয়ে সবাই ঐকমত্য ও সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কয়েকটিতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল। সব আলোচনা করে আমরা পাস করার বিষয়ে একমত হই এবং সংসদে পাস করা হয়। আজকে জুলাই স্মৃতি যাদুঘর বিল নিয়ে কাউকে না জানিয়ে মাত্র আধাঘণ্টা আগে সংশোধনী এনে পাস করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন না করে সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।

logo-2-1757314069.png)
