Logo
×

রাজনীতি

আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল: সংসদে জামায়াত আমির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫৬

আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল: সংসদে জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন একাত্তর সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত, পূর্ণাঙ্গ, একমাত্র সাক্ষী। বাকি আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। কিন্তু আল্লাহতালাই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২' সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন। এসময় শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এ কথা বলেন। মূলত, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল এদিন জাতীয় সংসদে পাস হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চল দুই-দুইবার স্বাধীন হয়েছে। সাতচল্লিশে একবার। ২৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা দেশ এবং জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে লড়াই করেছিলেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’ দেশ স্বাধীন হলেও, সে আকাঙ্ক্ষা তখনকার শাসকেরা পূরণ করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। এ সময় স্বাধীনতার পরপর বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর তার ধারাবাহিকতায় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে নিঃসন্দেহে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এর সুফল পরবর্তী পর্যায়ে জাতি পেয়েছে এবং আজকের পার্লামেন্ট সেই ধারাবাহিকতার অংশ।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন দেশটা মানবিক হবে এবং সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে হয়েছিল তার পুরাটাই উল্টা। জনগণের রায়কে সম্মান দেখাতে ব্যর্থ ও অস্বীকার করার কারণে যে যুদ্ধটি (মুক্তিযুদ্ধ) অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করা গেল, দেশের (স্বাধীনতার পর) শাসকেরা সেটা ভুলে গেলেন। একপর্যায়ে তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সালে এই সংসদে মাত্র ৭ মিনিট আলোচনা করে দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগ এতটাই বেপরোয়া হয়েছিল, যে আওয়ামী লীগ নামে তারা নির্বাচন করে ১৯৭০ ও ৭৩ সালে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা স্বয়ং সে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং এই সংসদ সে ধারাবাহিকতার অংশ।’ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিলের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিলে প্রস্তাবনা করা হয়েছে যে জিনিসটা, স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও (সেটা) আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান; তিনিও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয়া প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে আসলেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা। এবং পরবর্তী পর্যায়ে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।’ এসময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমরা কখনো এটা ভুলে যাইনি। ভুলে যাব না। আমরা সেই দায়-দরদ-ভালোবাসা নিয়েই ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আগামীর দিনগুলোতেও আর জাতিকে বিভক্ত নয়, বরঞ্চ ঐক্যবদ্ধ করে আমরা যাতে একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের এটিই হোক অঙ্গীকার। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল সম্পর্কে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই বলে সংসদের নজরে আনার জন্য সংসদকে অনুরোধ করেছেন। পরে তিনি বিলটি ভোটে দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা তো কোনো আপত্তি করেন নাই। তবু আপনি কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন।’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার উত্থাপিত আকারে বিলটি তুলবার জন্য অনুরোধ করছি।’ পরে স্পিকার অনুমতি দেন। উল্লেখ্য, বিরোধীদলীয় নেতা বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও বিলের কোন ধারায় তিনি সংশোধন চান, তা উল্লেখ করেননি।