Logo
×

রাজনীতি

"অন্তর্বর্তী সরকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে জড়িত ছিল"

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৮

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচন কারচুপির সাথে জড়িত ছিল। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের অনেকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জয়পুরহাট শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক উপদেষ্টাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের অনেকেই দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন। আমরা তাদের এই ভূমিকাকে ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার লোকই জানে, উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন- আমরা জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেই নি। অন্তত এতটুকু পেরেছি যে তাদেরকে বিরোধী দলে আসলেও মেইন স্ট্রিমে আসতে দেই নি, মানে সরকার গঠন করতে দেই নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলের এই হুইপ বলেন, নির্বাচন কিভাবে হয়েছে তা দেশের জনগণ ও সাংবাদিকদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা প্রথম দিন থেকেই দলীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ হয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে জড়িত ছিল।

'গণভোট' ও 'সংস্কার' ইস্যুতে সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দলের মন্ত্রীরাও একসময় এই গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন এবং প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। যারা এখন বলছেন 'গণভোট বলে কিছু নাই', তাদের সমালোচনা করে তিনি জাতির পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখেন, আপনারা গণভোট মানেন কি না? আপনারা সংস্কার মানেন কি না? জাতির সামনে আপনাদের বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে রফিকুল ইসলাম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ঘটনাই আছে, যেখানে সরকার প্রথমে মানে না, কিন্তু এক পর্যায়ে মানতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকারও গণভোটের এই রায় বাস্তবায়নে একপর্যায়ে বাধ্য হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।