"ঋণখেলাপি-ব্যাংকডাকাতদের নিয়ে দুর্নীতি দমন করবেন, হাস্যকর"
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১০
ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির দাবি করাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন দিয়ে আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-যুবসমাজ যে আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল, সেটি ছিল ন্যায্য ও সাধারণ একটি দাবি। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবি। কিন্তু অতীতের মতোই ফ্যাসিবাদী কায়দায় সেই আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার পর সারাদেশ জ্বলে ওঠে। এর পরদিন ১৬ জুলাই উত্তরবঙ্গে শহীদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দেওয়া আত্মত্যাগ জাতিকে নাড়া দেয়। আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তিনটি গুলি সে বুকে নিয়েছে, একটিও পিঠে নেয়নি। এই আত্মত্যাগই আমাদের অনুপ্রেরণা।
৫ আগস্টকে ‘জাহিলিয়াত থেকে মুক্তির দিন’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দুঃখজনকভাবে যারা দীর্ঘদিন মজলুম ছিল, তাদেরই একটি অংশ রাতারাতি জালিমে পরিণত হয়েছে। ৬ আগস্টের পর থেকেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জন্য তো আমাদের সন্তানরা রক্ত দেয়নি। পুরোনো চাঁদাবাজের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজ, পুরোনো দখলবাজের জায়গায় নতুন দখলবাজ, এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। তিনি বলেন, যুবসমাজ কখনো বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজ ও সম্মান। বেকার ভাতার কথা বলে যুবসমাজকে অপমান করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভালো কাজ শুরু হয় নিজের ঘর থেকে। ৫৯ জন ভয়াবহ দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি দমন করবেন, এ কথা শুনলে জনগণ হাসবে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশে অপরাধী যে-ই হোক, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থল কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। নতুন বাংলাদেশে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নারী ও কন্যাশিশুর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যুব নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যুবকদের হাতেই তুলে দিতে চাই। আমরা পেছনের সিটে বসব আর ককপিটে বসবে তরুণরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

logo-2-1757314069.png)
