Logo
×

রাজনীতি

আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াতের আমির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫৫

আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য:  জামায়াতের আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় হবিগঞ্জে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বর্তমান বাংলাদেশের যে চিত্র, সেটি দেখলে তার ভাই হয়ত মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতেন না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, এখনও মায়েরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ নয়। ঘর থেকে বের হলে এবং কর্মস্থলেও নিরাপদ নয়। এখনো প্রিয় দেশে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে নিরীহ মানুষ অস্থির। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। মানুষ কি এই বাংলাদেশ চেয়েছেন? আমি বিশ্বাস করি এখানে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। অথবা তাদের সন্তানেরা আছেন। আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না। জীবন বাজি রেখে, জীবন দিয়ে যারা আমাদেরকে ঋণী করে গেলেন তাদের প্রতি এই দেশ, এই জাতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কি সম্মান দেখালো? তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়বে। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তারা তাদের স্বাস্থ্যের পরিচর্যার সমস্ত অধিকার ভোগ করবে। সমাজে নিরাপত্তা থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। আসলে কিছুই হলো না। এর জন্য কারা দায়ী? যারা দফায় দফায় দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছে তারা যদি ভালো কিছু করে থাকে তার জন্য এবং অপকর্ম যদি করে থাকে তার জন্যও তারাই দায়ী।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কেউ একেবারে ভালো কিছু করেননি- এ কথা আমি বলছি না। কিন্তু এ দেশ সবুজ ছায়ায় ঘেরা, উর্বর একটি দেশ। এ দেশে অনেক সম্পদ আছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না কেন? শুধু অসৎ নেতৃত্বের কারণে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। গত সাড়ে ১৫ বছরে কমপক্ষে ২৮ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। এ টাকাগুলো কার? এ টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের। রাস্তায় যিনি ভিক্ষা করেন এই টাকার অংশে তিনিও আছেন। আজকের জন্ম নেওয়া শিশুরও অংশ আছে। রাষ্ট্রের আয়ের তিনটি খাত- একটি হলো ট্যাক্স, আর একটি বিদেশি অনুদান, আর বিদেশি সাহায্য। এ তিনটি মিলে রাষ্ট্রের তহবিল গঠন হয়। এই তিনটিতে সমস্ত মানুষ অংশীদার। তারা জনগণের টাকা চুরি করে বড়লোক হয়েছে। তারা পরিবারসহ টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। জামায়াত আমির বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ময়দানে নেমেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে আমরা চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। চাঁদাবাজরা আর চাঁদাবাজি করার সাহস পাবে না। রাজধানীর কিছু কিছু জায়গায় ভিক্ষুক ভিক্ষা করতে বসে- তাদেরও চাঁদা দিয়ে ভিক্ষা করতে হয়। রাজনীতি আমাদের পেশা নয়। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করে। এরা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রাখতে দেয় না। কিছু রাজনৈতিক বন্ধুরা আছেন- যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চান। তাদের কি মা-বোন নেই? আপনারা নিজেদের মা-বোনদেরকে সম্মান করা শিখুন। যদি আপনাদের মা-বোনদেরকে সম্মান করা শিখে থাকেন-  তাহলে এ দেশের ৯ কোটি মা-বোনদেরকে আপনারা সম্মান করতে পারবেন। আমরা এই ভাই-বন্ধুদেরকে বলব, প্লিজ এই অপকর্ম থেকে বিরত থাকুন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি আপনারা বিরত না থাকেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, গায়ে হাত তোলেন, কাপড় ধরে টান দেন তাহলে আমরা বলে দিচ্ছি, অনেক সহ্য করেছি। প্রয়োজনে জীবন দেব কিন্তু আর কাউকে মায়েদের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদেরকে আহ্বান করব, কেউ যদি এ ধরনের আচরণ করে তাহলে আপনারা সকলে মিলে এর প্রতিহত করবেন এবং পুলিশের হাতে দেবেন। কেউ যদি আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে আমার বিরুদ্ধে আগে মামলা করতে বলবেন।

তিনি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে, ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে আইনের মাধ্যমে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও যদি সেই অপরাধ করে তাদের সে আইনেই বিচার হবে। আইন কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। আইন সকলের জন্য সমান হবে। বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না ইনশাআল্লাহ। যে বাংলাদেশে আমার মা-বোন-কন্যা- কারও কোনো ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই সেই বাংলাদেশ দেখতে চান না উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন, এ বাংলাদেশও দেখতে চাই না, যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের জ্বালায় সমস্ত মানুষ অতিষ্ঠ। ঐ বাংলাদেশও দেখতে চাই না, নিরীহ মানুষদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করে হেনস্তা করা হয়। তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়, সে বাংলাদেশও আমরা দেখতে চাই না। যারা নির্বাচিত হবেন তারা চরিত্র হারিয়ে লুণ্ঠনকারী হয়ে যাবেন, সেই বাংলাদেশও দেখতে চাই না। তিনি নির্বাচিত প্রার্থীদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা সম্পর্কে বলেন, আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানিতে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা পেয়ে আমাদের যারা নির্বাচিত হবেন তারা প্রতি বছর একবার তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য হবেন। শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, তাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আয়-ব্যয়ের হিসাবও দিতে হবে। তিনি শিক্ষার ব্যাপারে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কাগজের সার্টিফিকেট তৈরি করবে না। দক্ষ জনবল তৈরির কারখানা হবে। যারা দেশ গড়ার কারিগর হবে। সেই শিক্ষা আমরা হাতে দেব। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে পারব না। আর বেকার ভাতাও তুলে দেব না। আমাদের যুবকেরা কারও কাছে বেকার ভাতা চায় না। তারা চায় তাদের হাতকে মর্যাদা দেওয়া হোক। তারা চায় তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হোক। তিনি যুবকদের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের জনবল নিয়ে আমরা গ্রামকেও শিল্প বানানোর পরিকল্পনা আছে। আমরা কৃষিভিত্তিক কলকারখানাও চালু করব। সেখানে শিক্ষিত যুবকেরা মেধা, যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের চেহারা পাল্টে দেবে। আনন্দের সঙ্গে মা-বাবাকে নিয়ে বসবাস করবে। যুবকরা গর্বিত হয়ে বলবে- আমরাই বাংলাদেশ, এটা আমাদের বাংলাদেশ। আমরা সবাই মিলেমিশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই বাংলাদেশকে গড়ব ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বাংলাদেশটা চাই, যেই বাংলাদেশে শিশুও গর্বের সঙ্গে বলবে এটা আমার বাংলাদেশ। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা বলবে এটা আমার বাংলাদেশ।