নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার একটা পরিকল্পনা হচ্ছে : মির্জা আব্বাস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:০৩
ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘যে যত কথাই বলুক আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য একটা পরিকল্পনা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপারমার্কেট অডিটরিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড এবং শাহবাগ মোড়ের আশপাশে ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়ে তিনি গণসংযোগ করেন।
সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের ভোটের অধিকারটা অর্জন করেছি।
আমরা চাই, আমার দেশের জনগণ একযোগে ভোট দেবেন। যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন, নিজের পছন্দ লোককে ভোট দেবেন। কিন্তু ভোট দিতে যাবেন দয়া করে। অধিকারটা প্রয়োগ করতে যাবেন।
ডাক্তার হোক, নার্স হোক, রাজনীতিবিদ হোক, খুনি হোক, মজুর হোক; যেই হোক ভোটের অধিকার প্রয়োগের দায়িত্ব তার রয়েছে। কিন্তু এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে দেশের একটি গ্রুপ। ওই যে ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়েছিল, খেয়াল আছে? ভোট হলো না, কিন্তু একটি দল জয় লাভ করল। একইভাবে যে যত কথাই বলুক, আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য একটা পরিকল্পনা হচ্ছে।
আগে নির্বাচন করেছি, আমাদের পোলিং এজেন্টরা নির্বাচনের ফলাফল লিখিতভাবে হাতে নিয়ে তারপরে ঘরে ফিরেছে। রাত্রি ৭-৮টার সময়। আর এখন বলছে নির্বাচনের ফলাফল পেতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। এটা আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেব না। এটা হলো কারচুপি করার প্রথম লক্ষণ আমার মনে হচ্ছে।
কারণ এই সরকারের কিংবা এই সরকারের মধ্যে কিছু কিছু লোক আছে, যারা এখনো আওয়ামী লীগের কাজ করে। যারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা চায় প্রথমে নির্বাচন না হোক। আর যদি হয় তাহলে বিএনপি যাতে জিততে না পারে। বিএনপিকে হারানোর পরিকল্পনা তারা করছে।
তিনি বলেন, একদল লোক আছে যারা দেশের বাইরে থাকে, নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে। আসলে দেশে এবং বিদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলেন, সকলেই দেশ প্রেমিক নয়। এটা বুঝতে হবে। দেশের জন্য প্রেম থাকলে দেশে আসেন না কেন? দেশে আসেন। দেশে এসে নির্বাচন করেন। জনগণের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করেন। ওই বিদেশ থেকে বসে-বসে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষতি করা যায়, বদনাম করা যায়, অপবাদ দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা তারা করছেন। আর তাদেরই বাচ্চা-কাচ্চারা ঢাকায় বসে সকাল দুপুর সন্ধ্যা, সারাদিনে যতবার আল্লাহর নাম নেয়; তারা চেয়ে ১০০০ ভাগ বেশির নাম নেয় বিরোধী দলের, মির্জা আব্বাস কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের। সারাদিন তাদের মুখে মিথ্যা কথা ফুটতেই থাকে। আবার তারা বলে, তারা নাকি মাদরাসায় লেখাপড়া করেছে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সন্তানদের আর মাদরাসায় পাঠাতে পারব না? মাদরাসায় গিয়ে কি মানুষ মিথ্যা বলা শেখে? মাদরাসায় মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সত্য শিক্ষা পায়। সেখানে গীবত কী, মিথ্যা কী এসব শেখানো হয়। গীবত ও মিথ্যা বলা নিষেধ করা হয়। অথচ এরা মাদরাসায় পড়ে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা মিথ্যা কথাই বলে যাচ্ছে।
এর আগে নির্বাচিত হয়ে কী কী করেছেন, তার কিছু অংশ তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য চাকরির ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

logo-2-1757314069.png)
