এবার কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না: প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৫
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবার কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে জামায়াত নেতারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিতের বিষয়ে কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবো; সরকারের যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার থাকে, নেব। তিনি বলেন, এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না। এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কেন্দ্রগুলোকে খুব দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এগুলো জানুয়ারির মধ্যেই ইনস্টল হয়ে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটর করা হবে এবং ফুটেজ রেকর্ড থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ইতোমধ্যেই প্রচারণা শুরু করেছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুইটি ক্যাম্পেইন চলবে বলে তারা জানান। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার-প্রচারণা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এটি আইনসম্মত কি না। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই হলো সংস্কারের পক্ষে থাকা।

logo-2-1757314069.png)
