Logo
×

জাতীয়

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়: মন্ত্রী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১৫:৩০

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়: মন্ত্রী

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সেতুর পিলারের পাশে যে মাটি সরানো হচ্ছে, সেটি মূল কাঠামোর অংশ নয়; বরং নির্মাণকাজের সময় সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি, যা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের আগেই অপসারণ করার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় নদীর মাঝখানে কাজ পরিচালনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট, সাপোর্ট স্ট্রাকচার তৈরি এবং যন্ত্রপাতি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের এসব সাময়িক কাঠামো অপসারণ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি।

তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের সময় কিছু জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ফিলিং করা হয়েছিল, যাতে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সময়মতো হয়নি। এখন সেই মাটিই অপসারণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভরাট করা মাটি শক্ত ও স্বাভাবিক মাটির মতো হয়ে গেছে। ফলে এখন মাটি কাটার দৃশ্য দেখে অনেকের মনে হচ্ছে, সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি সরানো হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভয় তৈরি হয়েছে-পিলারের পাশে মাটি কাটলে সেতু ঝুঁকিতে পড়বে কি না। কিন্তু প্রকৌশলগতভাবে এই মাটির সঙ্গে মূল পিলারের নিরাপত্তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

শেখ রবিউল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণ করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও ভালো হবে। তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী ওই আর্টিফিশিয়াল মাটি সরিয়ে ফেলাই যুক্তিযুক্ত। এটি সরালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, নৌ চলাচলেও সুবিধা হবে। এ সময় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী সুবিধা নিচ্ছে বা মাটি বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে-এমন অভিযোগের ভিত্তি তিনি পাননি। তার ভাষায়, এটা মাটি বিক্রি বা কাউকে লাভবান করার প্রকল্প নয়। এটি মূল নির্মাণকাজেরই অসমাপ্ত অংশ। দেরিতে হওয়ায় এখন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। পদ্মা সেতু ইস্যুতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে আরও গভীরভাবে প্রকৌশলগত বিষয়গুলো বোঝা প্রয়োজন।