Logo
×

জাতীয়

এত খারাপ সময় আর আসেনি, কোরবানির পশু বিক্রেতাদের হাহাকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৩:২৬

এত খারাপ সময় আর আসেনি, কোরবানির পশু বিক্রেতাদের হাহাকার

কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। শেষ দিনে হাটে ক্রেতাদের ভিড় আর চড়া দাম আশা করলেও, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার সংকট দেখা গেছে।

লোকসানে অনেকে সস্তায় বিক্রি করে দিচ্ছেন কোরবানির পশু। বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ক্রেতা খুব কম।

রাজধানীর কমলাপুর পশুরহাটে যেন হঠাৎ করেই উল্টে গেছে কোরবানির বাজারের পুরো হিসাব। যে গরুর দাম মঙ্গলবারও দুই লাখ টাকা বলা হয়েছিল, আজ সেই গরুর দাম নেমে এসেছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায়।

কোথাও কোথাও তিন লাখ টাকার গরুর দাম বলা হচ্ছে মাত্র এক লাখ ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই— অথচ হাটজুড়ে শত শত গরু। ফলে চরম হতাশা, লোকসান আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত খামারি ও ব্যবসায়ী। বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে শুধু গরু আর বিক্রেতা।

কিন্তু নেই প্রত্যাশিত ক্রেতা। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে হাটে মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া, সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই নেমে আসে অদ্ভুত নীরবতা। বিক্রেতাদের অনেকে গরুর পাশে বসে আছেন মাথায় হাত দিয়ে। কেউ হিসাব মেলাচ্ছেন লোকসানের, কেউ আবার ট্রাক ভাড়া করে গরু ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ৮০টি গরু নিয়ে কমলাপুর হাটে এসেছেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম।তার বেশিরভাগ গরুর দাম ছিল দুই লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে তিনি যেন পুরোপুরি দিশেহারা। শহিদুল ইসলাম বলেন, যে গরুর কেনা দামই দুই লাখ টাকা, সেই গরু এখন মানুষ দাম বলছে এক লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এই দামে বিক্রি করলে প্রতিটি গরুতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে। এত কম দামে বিক্রি করার চেয়ে গরু ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো। তিনি জানান, রাত ১২টার দিকে ট্রাক আসবে। এরপর অবিক্রিত গরুগুলো আবার গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তার ভাষায়, গরুগুলো ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে এসেছে। তারপর আবার বৃষ্টির মধ্যে হাটে থাকতে হয়েছে। অনেক গরু অসুস্থ হয়ে গেছে, কয়েকটার জ্বরও এসেছে। এখন এগুলো গ্রামে নিয়ে গিয়ে অন্তত ১০ দিন পরিচর্যা করতে হবে। তারপর হয়তো কেজি দরে বিক্রি করতে হবে। শুধু শহিদুল ইসলাম নন, একই চিত্র পুরো হাটজুড়েই।