শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় বিশেষ পিপি নিয়োগ দিলো সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ২২:৪০
রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (২৩ মে) আইন,
বিচার ও সংসদ বিষয়ক
মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার
বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি
করা হয়েছে।
আইন
ও বিচার বিভাগ শাখার ডেপুটি সলিসিটর (জিপি-পিপি) মো.
রফিকুল ইসলামের সই করা ওই
আদেশে বলা হয়, দ্য
কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর,
১৮৯৮ এর ৪৯২ অনুচ্ছেদের
বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু
সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন
পল্লবী থানার মামলা নম্বর ৩৫, ধারা- নারী
ও শিশু নির্যাতন দমন
আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ
২০১ পেনাল কোডে রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার
জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। জনস্বার্থে
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর
হবে।
এদিকে
শনিবার শিশু রামিসা ধর্ষণ
ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট
হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ঊর্ধ্বতন
এক কর্মকর্তা দ্যা রিপোর্ট 24 কে ডিএনএ রিপোর্ট
হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর
আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ
ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে
জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত
সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে
পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই
দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের
আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার
(১৯ মে) সকাল সাড়ে
৯টার দিকে শিশু রামিসা
ঘর থেকে বের হলে
সোহেল জোরপূর্বক তাকে রুমের ভেতরে
নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাথরুমে
নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
এতে শিশু রামিসা জ্ঞান
হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যেই তার
মা রামিসার খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।
ওই
সময় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে
গলা কেটে হত্যা করেন।
এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে
তার মাথা ধারালো ছুরি
দিয়ে কেটে শরীর থেকে
আলাদা করেন। সেই সঙ্গে দুই
হাত কাঁধ থেকে আংশিক
বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম
থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে
রাখে। একই সময় শিশুটির
সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা
হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী
একই রুমে ছিল। পরে
জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়
সোহেল।
আলোচিত
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা পুলিশের আবেদনে
বলা হয়, হত্যার শিকার
শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয়
শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯
মে) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে সে বাসা থেকে
বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী,
প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে
নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল
সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে
যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের
সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে
অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান
তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও
কোনো সাড়া না পেয়ে
দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন
শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই
সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির
মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এছাড়া
আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে
তার মাথাটি রাখা ছিল।
আবেদনে
আরও বলা হয়, মরদেহ
গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার
মাথা শরীর থেকে আলাদা
করা হয়। সেই সঙ্গে
তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা
হয় এবং দুই হাত
কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন
করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে
খাটের নিচে রাখা হয়।
পরে কাটা মাথাটি বালতির
মধ্যে রাখা হয়।
অন্যদিকে
ঘটনার পর কক্ষের জানালার
গ্রিল কেটে পালিয়ে যান
প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি
ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন
বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

logo-2-1757314069.png)
