দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৬
বাংলা
নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ
বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে
আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেয়া
এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক
অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে
নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে
পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে
ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি
বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি,
প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক
কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও
প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল
উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার
হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি
ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত
হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন
আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং
আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ
আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও
নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের
আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত
উৎসবমুখর পরিবেশ।
তারেক
রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী
শোষণ শাসনের অবসানের পর গত ১২
ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু
করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার।
দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র
এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার
মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন
কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি
বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই
ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি
চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব
এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয়
গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা
কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক,
কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির
সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু
হলো কৃষক কার্ড প্রদান
কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড
বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি
অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে
এটিই হোক আমাদের প্রত্যয়
ও প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমি আশা করি,
বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয়
ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত
সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা
গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে
এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট
ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি,
সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের
চর্চা আরও জরুরি হয়ে
উঠেছে।’
তিনি
বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা
যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে
উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-
এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব
হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে
নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নববর্ষ সবার
জীবনে বয়ে আনুক সুখ,
শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে
আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

logo-2-1757314069.png)
