দেশে
আবারও মৃদু কম্পন অনুভূত
হয়েছে। তবে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল
ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর
এলাকায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে
৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি
ভূমিকম্প আঘাত হানে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ঢাকা
থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে
এই কম্পন বাংলাদেশের সিলেট ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত
এলাকায়ও টের পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টা
৪৮ মিনিটে এ ভূকম্পন শুরু
হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়,
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল শিলচর শহর
থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা
ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
শিলচর
ছাড়াও আসামের বিভিন্ন স্থান ও বাংলাদেশের সিলেট,
মৌলভীবাজারসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ এমন
কম্পনে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার মানুষ অনেকটা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে
ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত কোনো
বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর
পাওয়া যায়নি।
এর
আগে দেশে মাঝারি মাত্রার
ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয়
সময় রোববার (৫ এপ্রিল) রাত
১টা ৪ মিনিটে কুমিল্লার
লাকসাম থেকে প্রায় ১৯
কিলোমিটার পশ্চিমে ৩ দশমিক ৯
মাত্রার ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
এর
উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ৪৯
কিলোমিটার গভীরে, অর্থাৎ এটি তুলনামূলকভাবে অগভীর
ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বসবাসকারী কিছু মানুষ মৃদু
কম্পন অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা
হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পবিষয়ক তথ্য
প্রদানকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি এ খবর প্রকাশ
করেছে।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় মাঝেমধ্যে মৃদু ও মাঝারি
মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে,
এ ধরনের ভূমিকম্প বড় ধরনের ঝুঁকি
তৈরি না করলেও মানুষের
সতর্ক থাকা জরুরি।
গত
৩০ দিনে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ
৪.৪ মাত্রা পর্যন্ত
মোট ৩৮টি ভূমিকম্প রেকর্ড
করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪
মাত্রার বেশি ছিল ২টি,
৩ থেকে ৪ মাত্রার
মধ্যে ছিল ৭টি, ২
থেকে ৩ মাত্রার মধ্যে
ছিল ২৭টি এবং ২-এর নিচে-যা
সাধারণত মানুষ অনুভব করে না-এমন
ছিল ২টি। এই পরিসংখ্যান
থেকে বোঝা যায় সাম্প্রতিক
সময়ে দেশে ছোট ও
মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কার্যক্রম কিছুটা সক্রিয় রয়েছে।

logo-2-1757314069.png)
