সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৫
মধ্যপ্রাচ্যে
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধের
সময়সীমায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে সারা
দেশের বিপণিবিতান ও দোকানপাটগুলো সন্ধ্যা
৬টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা
রাখা যাবে। অর্থাৎ, আগের চেয়ে আরও
এক ঘণ্টা বেশি সময় ব্যবসা
পরিচালনার সুযোগ পাবেন মালিকরা।
রোববার
(৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের
সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের
কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, দেশের
সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের জীবনজীবিকার
কথা বিবেচনা করেই সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ
করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী
বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের
যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য
প্রয়োজনীয় মজুত আছে। প্রায়
তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ
করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের
পেট্রোল ও অকটেনের মজুত
রয়েছে।
জ্বালানি
তেল আমদানির ভালো কিছু উৎস
পেয়েছেন বলেও জানান অমিত।
তিনি বলেন, ‘আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল
আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে
স্যাংশন ওয়েভার দেয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার
আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল
আমদানির সুযোগ দিবে।’
দেশের
বিভিন্ন স্থন থেকে এখন
পর্যন্ত চার লাখ লিটার
জ্বালানি তেল উদ্ধার করা
হয়েছে বলে জানান অনিন্দ্য
ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘তিন
মাসের চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি তেল সংরক্ষণের নির্দেশ
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে সন্ধ্যা
৬টা নয়, শপিং মল
বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৭টার
মধ্যে। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছে।’
কৃষকদের তেল পেতে কোনো
সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ভাবে
তা সমাধানে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ
দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তেল সরবরাহে কৃষকদের
অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের
বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ
দেয়া হয়েছে।’
মূলত
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল), মধ্যপ্রাচ্যে
যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব
দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্ত্রিসভা। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের
ফলে বড় ধরনের ব্যবসায়িক
ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর
জন্য আবেদন জানান।
ব্যবসায়ী
নেতাদের প্রস্তাব ছিল, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের
স্বার্থে তারা সকাল ৯টার
পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান
খুলতে আগ্রহী, তবে কেনাকাটার মূল
সময় বিবেচনায় তারা রাত ৮টা
পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। মালিক
সমিতির এই যৌক্তিক দাবির
প্রেক্ষিতে সরকার মধ্যপন্থা অবলম্বন করে সন্ধ্যা ৭টা
পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি
দেয়।

logo-2-1757314069.png)
