সংবিধান সংস্কারের সমাধান না হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভবিষ্যৎ ‘পরিষ্কার নয়’: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৭
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভবিষ্যৎ ‘পরিষ্কার’ হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ (মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ) বেলা ১২টায় রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাতের ভোটের নির্বাচনই ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পালানোর শর্ত পূরণ করেছে। নিশিরাতের নির্বাচন ও ফ্যাসিস্ট শাসনামল থেকে পাওয়া ইতিহাসের শিক্ষা বিএনপি সরকার লাগাতারভাবে চর্চা করবে। ইতিহাসের চর্চা করার মধ্যে দিয়েই সঠিক সুশাসনের গতি নির্ভর করে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক অবস্থা পরিষ্কার হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংবিধানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের অবাধ নির্বাচনের যাত্রা অব্যাহত রাখবে বিএনপি।’
বক্তব্যের শুরুতেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তরুণ বয়স থেকেই নতুন প্রজন্মকে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিতর্ক এবং বিতর্ক করার জন্য যে ক্রিটিক্যাল এনগেজমেন্ট, যে ক্রিটিক্যাল অবজারভেশন, আমাদের সন্তানদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা। কনফার্ম করার মধ্যে কিন্তু কোনো কৃতিত্ব নেই। সবকিছুতে হ্যাঁ, হ্যাঁ,
হ্যাঁ; এটার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মের নবীজি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তিনি তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধর্মবিশ্বাসকে নাকচ করেই কিন্তু আজকের এ ধর্মের জন্ম হয়েছে। অতএব অন্ধের মতো কোনো কিছুকে মেনে নেয়ার মধ্যে কিন্তু কোনো কৃতিত্ব নেই। হ্যাঁ, আমি মানতে রাজি আছি কিন্তু তার আগে তো বুঝতে হবে আমাকে। এবং বোঝাবুঝির জন্য যতটুকু বিতর্ক আমার করা উচিত, ততটুকু বিতর্ক করার মুক্ত চিন্তা এবং সৎ সাহস সম্পন্ন নাগরিক তৈরি করাই হবে ‘‘ফিরে দেখা সেই সময়’’ এই বইয়ের লেখকদের কাজ।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতের বিচারাধীন আছে। এখনও পর্যন্ত আদালতের সেই চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এবং রাষ্ট্রপতির যেই আদেশের বলে আমাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়েছে, সেই সংক্রান্ত আলোচনা যেটি সংসদে চলছে তার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভবিষ্যতের সাংবিধানিক অবস্থানটা পরিষ্কার হবে না। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনের সকল গণঅভ্যুত্থান মানুষের এ রায়কে প্রমাণ করেছে। আমাদের দেশে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সিক্সথ পার্লামেন্টে সন্নিবেশিত করেছিলেন। যারা সময়ের দিকে ফিরে তাকাবেন তাদের আমি আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, ফিফথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন। সিক্সথ পার্লামেন্ট বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছিল এবং অল্পদিনের মধ্যেই সিক্সথ পার্লামেন্টের অবসান ঘটিয়ে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে সেভেনথ পার্লামেন্টারি ইলেকশন হয়েছে। সেভেনথ পার্লামেন্টারি ইলেকশনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, আমাদের নেত্রী বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন।
‘
ইতিহাস প্রমাণ করে, সিক্সথ পার্লামেন্ট দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তৈরি করেছিলেন শুধুমাত্র সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সন্নিবেশিত করার জন্য। আজও মানুষের মধ্যে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার এই সাংবিধানিক অবস্থানকে ধরে রাখাটার জন্য যে আগ্রহ, আর সেখান থেকে শেখ হাসিনার বিচ্যুতির কারণে চব্বিশের ৫ আগস্টের তার যে চরম শিক্ষা, এই দুইটি তথ্যই কিন্তু ইতিহাসের পাঠক হিসেবে আমাদের কাছে আছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সে কারণেই আমি আবারও উচ্চারণ করতে চাই, ইতিহাসের শিক্ষা আমাদের সরকার, আমাদের সরকার লাগাতারভাবে চর্চা করবে। কারণ আমরা জানি, এ শিক্ষার মধ্যেই সেই পথ নিহিত, যেই পথে আমরা ফিরে দেখা সময়ের আলোকে অবাধ দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আবারও এই রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো ইনশা আল্লাহ।’

logo-2-1757314069.png)
