বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে সড়কমন্ত্রী
নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার নজির নেই, মালিকরা খুশিতেই কম নিচ্ছেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩১
সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো নজির গত সাত দিনে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, তারা (পরিবহন মালিকরা) তাদের খুশিতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিচ্ছে। যত কম রাখা যায়,
তারা রাখছে। যদি সরকারি ভাড়া ৭০০ টাকা হয়,
যাত্রী আকৃষ্ট করতে ১০০ টাকা কমিয়ে তারা ৬০০ টাকা নিতেন,
এখনও তাই নিচ্ছেন। আবার কেউ ২০ টাকা কমিয়ে ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। অর্থাৎ,
নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম করেছে- এমন কোনো নজির আমি গত সাত দিনে পাইনি। আমি নিশ্চিত,
এটি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নয়। হয়তো আগে নেওয়া ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা বেশি।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
টার্মিনালের বাইরে বাস পার্কিং সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন,
যে পরিমাণ যাত্রী এই টার্মিনাল ছেড়ে যাবে এবং যে পরিমাণ বাস এখানে আছে,
তাতে সব বাসকে পার্কিংয়ের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে বাস ঢুকছে;
একটি বাস ছেড়ে যাচ্ছে,
আরেকটি বাস ঢুকছে। এখানে কিছুটা বিড়ম্বনা আছে,
যা এক দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। রাস্তার চলাচল স্বাভাবিক রেখে শৃঙ্খলার মধ্যে যতটুকু রাখা যায়,
আমরা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তা ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। আশা করি আমরা সফল হব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,
ভলান্টিয়ার,
বিআরটিএ এবং মালিক ও শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
নির্ধারিত টাকার চেয়ে এক টাকাও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে মোবাইল কোর্ট,
ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম আছে। যেকোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি।
জ্বালানি তেলের বিষয়ে তিনি বলেন,
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত বিষয় থাকতে পারে,
কিন্তু গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবহন মালিকরা এখানে আছেন;
গতকাল রাত থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। তেলের দাম বাড়ছে না,
যা আমি আগেও আপনাদের জানিয়েছি। আজকেও বলছি—তেলের দাম বাড়ছে না এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় চারদিক থেকে ‘পাচ্ছে না’ ‘পাচ্ছে না’ বলে জোরালো আওয়াজ শোনা যায়। তখন মন্ত্রী বলেন,
তেল পাচ্ছে না—এমন বলার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত হারে তেল পাচ্ছে। কোথায় তেল পাচ্ছে না,
আমাকে জানান। তেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার।
তিনি আরও বলেন,
কোনটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি,
আমাকে জানান। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আমরা একে নিরুৎসাহিত করছি। আমরা গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়ে সতর্ক করে আসছি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন,
শৃঙ্খলারসঙ্গে বাসগুলো আসছে এবং যাত্রীরা টিকিট কেটে নিয়মিতভাবে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারছেন। আজ সরকারি অফিস শেষে বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যথেষ্ট সংখ্যক বাস রাখা হয়েছে এবং যত্রতত্র পার্কিং নেই। আমি মনে করছি,
এবার জনগণ বাস,
ট্রেন বা লঞ্চ স্টেশন থেকে একটি স্বস্তির ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতভাবে পেতে যাচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব,
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম প্রমুখ।

logo-2-1757314069.png)
