Logo
×

জাতীয়

পরিসর বাড়লেও গবেষণামূলক বই বের হচ্ছে কি না ভাবা দরকার: প্রধানমন্ত্রী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৮

পরিসর বাড়লেও গবেষণামূলক বই বের হচ্ছে কি না ভাবা দরকার: প্রধানমন্ত্রী

অমর একুশে গ্রন্থমেলার পরিসর বাড়লেও গবেষণামূলক বই বের হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভাবা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বইমেলাকে আগামীতে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজনের সুযোগ রয়েছে কি না এবং মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না, এসব বিষয় নিয়েও বর্তমানে চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে বলেও তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বই পড়ার গুরুত্ব, ইন্টারনেটের কারণে বই পড়ার হার কমে যাওয়া এবং মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা বাড়ানোসহ একাধিক বিষয়ে কথা বলেন। বক্তব্য শেষে তিনি বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলা ঘুরে দেখেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ তিন লাখ টাকা তুলে দেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা সগৌরবে প্রতি বছর একুশ পালন করে থাকি। দিবসটি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এই বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোয় অমর একুশে বইমেলা ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি আমি আপনাদের সকলকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই। তারেক রহমান বলেন, অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা, জানা এবং বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে।

একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কাজ শুরু করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষা, ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতিবছর মেলার আকার-আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কি না কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না, এ বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে। বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রকাশকদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।