ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু, শ্রদ্ধা ও স্মরণে একুশের চেতনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮
‘আমার
ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে
পারি’—এই অমর পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে আজ
১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো
বাঙালির ভাষার মাস। রাষ্ট্রভাষা বাংলার
দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য
দিয়েই বাঙালি পেয়েছে তার ভাষাভিত্তিক পরিচয়।
সেই আত্মত্যাগের স্মরণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে
জাতি শ্রদ্ধা জানায় ভাষাশহীদদের।
১৯৫২
সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যারা প্রাণ দিয়েছেন,
তাদের স্মৃতিই এ মাসের প্রেরণা।
বাঙালির কাছে ফেব্রুয়ারি কেবল
ভাষার মাস নয়, দেশপ্রেমে
উজ্জীবিত হওয়ার সময়ও। ভাষাশহীদদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে
মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি হাতে
নেয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
১৯৯৯
সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে
একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্বের বিভিন্ন
দেশে মাতৃভাষার মর্যাদা ও ভাষাগত বৈচিত্র্য
রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
ভাষা
আন্দোলনের মাসের শুরু থেকেই সালাম,
বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আলোচনা, সাংস্কৃতিক
আয়োজনের মাধ্যমে আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে
তুলে ধরা হয়। তবে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রমজানসহ
বিভিন্ন কারণে এবার ফেব্রুয়ারির প্রথম
দিন থেকে অমর একুশে
বইমেলা শুরু হচ্ছে না।
ইতিহাস
বলছে, ১৯৪৮ সালের ২১
মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক সমাবেশে পাকিস্তানের
গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা
দেন—উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র
রাষ্ট্রভাষা। কার্জন হলেও একই বক্তব্যের
সময় ছাত্রদের প্রতিবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাংলাকে
অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তখনই
আন্দোলনের সূচনা হয়, যা দীর্ঘ
পথ পেরিয়ে ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত
রূপ নেয়।
বাংলার
মর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন জোরদার হলে তা দমনে
ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা
জারি করা হয়। কিন্তু
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সেই
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক
কর্মীরা মিছিল বের করেন। ঢাকা
মেডিকেল কলেজের কাছে পুলিশের গুলিতে
শহীদ হন সালাম, জব্বার,
শফিক, বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে। তাদের
রক্তের বিনিময়েই বাঙালি অর্জন করে মাতৃভাষার অধিকার—যা আজও জাতির
গর্ব ও প্রেরণা।

logo-2-1757314069.png)
