Logo
×

জাতীয়

সরকারি কর্মকর্তা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৩

সরকারি কর্মকর্তা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, তারা সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তাই কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাতিত্ব বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইজিপি বাহারুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফুদ্দিন আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ্যক্তি, দল কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত হওয়া যাবে না। নির্বাচনে সবাইকে আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সততা, দক্ষতা পেশাদারিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল শক্তি। সে জন্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, দক্ষতা পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বা কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।

উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে এবং রাখতে হবে।

এমনকি কোনো প্রকার খাবারও গ্রহণ করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন অস্বচ্ছ হলে জাতির জন্য অন্ধকার ভবিষ্যৎ নেমে আসতে পারে। সে জন্য জাতীয় নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব, আচরণ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশাবাদ ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।

নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, “আইন প্রয়োগ নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত পরিপত্র, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ অনুসরণ করতে হবে। কথায়, কাজে, আচরণে, ঘোষণায় বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য অধীনস্থ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিতে হবে। প্রয়োজনে জেলা মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রত্যহ অফিস শুরু কিংবা শেষে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি, বিভিন্ন সমস্যাবলি, বর্তমান কার্যক্রম, সামনের কর্মসূচি, করণীয় বর্জনীয় বিষয়াদি এবং আচরণ বিধিমালা কার্যক্রম সম্পর্কে সভা আহ্বান করা যেতে পারে।

মতবিনিময়সভায় ঢাকা বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।