দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও কমছে দেশীয় উৎপাদন, ফলে আমদানিনির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি খাতে তীব্র সংকটের মধ্যে মাসে মাসে বিল দিয়েও রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। বাধ্য হয়ে চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে খোলাবাজার থেকে।
পেট্রোবাংলার তথ্যে জানা গেছে, দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। দেশীয় কূপ থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৫ সালে রেকর্ড ১০৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ১১৫ কার্গোতে পৌঁছাতে পারে।
পেট্রোবাংলা জানায়, ২০১৭ সালের পর থেকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। নতুন কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যত বন্ধ রয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও ঝুঁকি ও লাভজনকতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় কেউই এগিয়ে আসেনি। ফলে স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধান স্থবির থাকায় আমদানিই হয়ে উঠছে একমাত্র ভরসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও অনুসন্ধানে অমনোযোগের কারণেই বাংলাদেশ এখন জ্বালানি আমদানির বাজারে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত এলএনজি আমদানির চাপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন তারা।

logo-2-1757314069.png)
