Logo
×

জলসা ঘর

কিংবদন্তির জন্মদিনে শ্রদ্ধা বিশ্ব চলচ্চিত্রের মহীরুহ সত্যজিৎ রায়

Icon

শুভ কান্তি নাথ, জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২৩:০৩

কিংবদন্তির জন্মদিনে শ্রদ্ধা বিশ্ব চলচ্চিত্রের মহীরুহ সত্যজিৎ রায়

‎বিশ্ব চলচ্চিত্রে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া কিংবদন্তি নির্মাতা -এর জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা এই মহান শিল্পী বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ১০৫ বছর। জন্ম কলকাতায় হলেও তার পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে।

‎শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা সত্যজিৎ রায় পড়াশোনা করেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং -এ। পরবর্তীতে ফরাসি নির্মাতা -এর সঙ্গে পরিচয় তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার উৎসাহেই ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়।

‎দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় , যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে  ও  নির্মাণের মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করেন বিখ্যাত —যা বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক অনন্য সংযোজন।

‎তার নির্মিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (১৯৬২), ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (১৯৬৮), ‘সোনার কেল্লা’ (১৯৭৪), ‘জন অরণ্য’ (১৯৭৫) এবং ‘আগন্তুক’ (১৯৯১)। বিশেষভাবে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা করে।

‎চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্যেও তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। তার সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ,  এবং তাড়িনী খুড়ো, যা বাংলা পাঠকমনে আজও সমান জনপ্রিয়।

‎বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অর্জন করেন ৩২টি ।

‎ এছাড়া তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান  এবং -এ ভূষিত হন। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে প্রদান করা হয় ।

‎২০০৪ সালে  পরিচালিত ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপেও তার নাম উঠে আসে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের বহু খ্যাতিমান নির্মাতা তার কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বিশেষ করে জাপানি কিংবদন্তি নির্মাতা  মন্তব্য করেছিলেন, “রায়ের চলচ্চিত্র না দেখা মানে পৃথিবীতে থেকেও সূর্য-চাঁদ না দেখা।”

‎প্রায় ৩৭ বছরের বর্ণিল কর্মজীবনে তিনি চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল ৭১ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। তবে তার সৃষ্টিশীলতা ও অবদান আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

‎বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা এই মহান শিল্পীর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে বিশ্ববাসী।