স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশির
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭
বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এ সংকটে ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এ হার সবচেয়ে বেশি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশ করা 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে দেখা গেছে, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে 'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে এমন খাবারকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল, তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড় করতে পারেননি। এ সংকটের হার আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি (৬৬.৬ শতাংশ)।
এরপরই এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের (২৫.৭ শতাংশ) অবস্থান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা এখনো সাধ্যের বাইরে। তার মতে, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ এগুলো সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা খুব ধীরগতিতে কমে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

logo-2-1757314069.png)
