দেশে হামের টিকাই ছিল না, এখন খুঁজে খুঁজে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ২২:২৩
দেশে হামের কোনো টিকাও ছিল না, সেখানে এখন এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে বৈঠক করে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিসেফ থেকে টিকা আসতে সময় লাগত। তখন গ্যাভির কাছে আমরা সহায়তা চাই। তারা দ্রুত আমাদের প্রয়োজনীয় টিকা দেয়। সেই টিকা দিয়েই ৪ এপ্রিল ১৮টি আক্রান্ত জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিসেফের টিকা হাতে পাওয়ার পর সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা মাইকিং করছি, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করছি। শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
হামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টিকা কার্যক্রম শুরুর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুও কমেছে। তিনি আরও বলেন, শুধু টিকা নয়, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। কারণ দুর্বল ইমিউনিটির শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

logo-2-1757314069.png)
