Logo
×

শিক্ষা

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ‘থাপ্পড়’ দিলেন নারী খেলোয়াড়

Icon

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪০

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ‘থাপ্পড়’ দিলেন নারী খেলোয়াড়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ইন্ডোর গেইমস ক্যারাম টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের বিরুদ্ধে৷ এ ঘটনায় জর্জিসকে থাপ্পড় দিয়েছেন খেলায় অংশ নেওয়া নারী খেলোয়াড় সাদিয়া সুলতানা নেলী। এরপর তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে সতর্ক করে বলেছেন, এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন।


বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ইন্ডোর গেইমসের ইভেন্ট ক্যারামের ফাইনাল খেলা নিয়ে এমন ঘটনা ঘটে। 


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনডোর গেইমস ইভেন্টের ক্যারমের ফাইনাল খেলা চলাচালে খেলার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠে। এসময় খেলায় অংশ নেওয়া নেলী ও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিসের মধ্যে বাকবিতন্ডায় শুরু হয়। এক পর্যায়ে নেলী জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেন।


খেলায় অংশ নেওয়া আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলি অভিযোগ করেছেন, খেলার নিয়ম অনুসারে ডুয়েল গেমসে দুইজন খেলোয়াড়কে একই বিভাগের হতে হবে। কিন্তু আমাদের অপনেন্টে থাকা দুজন খেলোয়াড় একই বিভাগের ছিল না। খেলার নিয়ম অনুযায়ী তারা অনৈতিক পথ অবলম্বন করেছে যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমরা কিরে কমিটির দায়িত্বে থাকা কমিটির উপপরিচালক গৌতম কুমার কে জানাই। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাদেরকে বহিষ্কার করে আমাদের টিমকে জয়ী ঘোষণা করে।


তিনি আরো বলেন, তবে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম তা না মেনে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থানের এবং আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। ক্রীড়া কমিটির উপপরিচালক  গৌতম কুমার সহ সবাই মিলে তাকে বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করলেও তিনি অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান এবং বিষয়টি কিরে কমিটির আহবায়ক বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. রইছ উদ্দিন কে চাইলে তিনি বলেন রইছ স্যার কেন প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিলেও কোন সমাধান হবে না। পারলে ফলাফল নিয়ে দেখান। এ সময়   উভয় পক্ষের বাকবিতন্ডের এক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন টিমের খেলোয়াড় সাদিয়া সুলতানা নেলি জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকে থাপ্পড় দেন।


তিনি বলেন, তিনি একজন জকসু প্রতিনিধি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কারো পক্ষ নিতে পারেন না। তাকে বারবার বোঝানো সত্ত্বেও  তিনি বিষয়টি মানতে নারাজ। এখানে স্পষ্ট পক্ষপাতিত করছেন তিনি। এমনকি বিষয়টি ভিসি কে জানাতে চাইলেও তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং যা ইচ্ছা তা করতে বলেন। তিনি ছাড়া এ বিষয়ে নাকি কোন সমাধান হবে না। একজন মানুষ স্পষ্ট অপরাধ করছে এবং সকলের বাইরে গিয়ে নিজের শক্তি মাত্রা জানান দিচ্ছে। এরপরও যদি আমার কাজ অপরাধ হয় তাহলে আমি প্রশাসনের দেওয়া শাস্তি মাথা পেতে নেব। তবে কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবো না। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন,  আমি কোন অন্যায় করিনি। বিষয়টি জানার পর আমি উভয় দলকে বিজয়ী ঘোষনা করতে চেয়েছিলাম কারণ তারাও  দুইদিন কষ্ট করে খেলে ফাইনালে এসেছে। আমি বলেছি ফোন করে লাভ হবে না। ভিসি স্যার কেন প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করতে পারেন।


এদিকে এঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (ক্রিড়া সম্পাদক জকসু) এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায় ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।


ক্রীড়া কমিটির উপপরিচালক গোতম কুমার জানান, আমরা খেলোয়াড়দের সাথে সকল সমস্যা সমাধান করে ফেলেছিলাম।  হঠাৎ জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম এসে উভয়কে বিজয়ী ঘোষণা করতে চাইলে বাঁধে বিপত্তি। 


তিনি আরো বলেন, মেয়েটা ক্রীড়া সম্পাদকের দুটি কথায় কষ্ট পেয়ে এমনটি করেছে। প্রথমত সে বলেছে ভিসি না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে কল করো, তাতেও লাভ নেই দ্বিতীয়ত সে বলেছে পারলে এই ইভেন্টের পুরস্কার নিয়ে দেখাও।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজন্স স্টাডিজের ডিন এবং ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর বলেন, পূর্বের ঘটনা আমি কিছুই জানিনা। ভিসি সহ আমরা পুরস্কার বিতরণ শেষে বের হয়ে যাওয়ার পথে দেখলাম একটা মেয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকে থাপ্পড় দিচ্ছে।  পরে বিষয় সম্পর্কে জেনেছি এবং ভিসি স্যারকে অবহিত করেছি।