Logo
×

শিক্ষা

যবিপ্রবির ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

Icon

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৬

যবিপ্রবির ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে ৭০ এর অধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তারা যবিপ্রবির ডা. এম.আর.খান মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেন, তবে এ সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি কোন নারী চিকিৎসককে।


জানা যায়, যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে খাবার খেয়ে ভোর চারটা থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে।


বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল নয়টায় মেডিক্যাল সেন্টার খুললে বীর প্রতীক তারমন বিবি হল থেকে একের পর এক ছাত্রী এসে সেবা নিতে থাকেন। দুপুর এগারোটা বাজতেই অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান মেডিক্যাল সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এসময় দায়িত্ব থাকা মেডিকেল ইনচার্জ ডা. মোছা. মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরত জামানকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।


আরো জানা যায়, বুধবার রাতে প্রায় ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। যারা শুধু ডাইনিংয়ের খাবার খেয়েছে তাদের মধ্য থেকেই ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। তবে যারা ডাউল খায়নি তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবনতা কম লক্ষ্য করা গেছে।


বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের ছাত্রীরা ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে জানান, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়, ফলে অনেক সময় খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্লেট ও বাটিও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। এছাড়া ডাইনিংয়ের আশাপাশে বিড়ালের উপদ্রবও আাছে, যা খাবারে মুখ দেয় মাঝে মাঝে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ছাত্রীদের জিম্মি করে রাখা হয়। চার মাসের ফিক্সড টোকেন না কাটলে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। আগে থেকেই মিলের টাকা পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায় না।


এছাড়া খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সময়মতো খাবার পানি সরবরাহ করা হয় না, টাকা দিয়ে এমন খারাপ খাবার খেতে বাধ্য করছে হল প্রশাসন। তাছাড়া অভিযোগ করলে উল্টো দায়িত্ব এড়িয়ে, যে অভিযোগ করে তার ওপর 'মিল ম্যানেজার' এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং খাবারের মান খারাপ হওয়ায় অনেকেই টোকেন কাটতে চায় না—কিন্তু তখন রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়। আবার নিজেরা রান্না করতে গেলেও কুকার নিয়ে সমস্যা করা হয়—নিয়ে গেলে ফেরত দেওয়া হয় না। সর্বশেষ বলতে চাই, আমরা পড়াশোনা করতে এসেছি, অসুস্থ হয়ে কষ্ট পাওয়ার জন্য না। যদি প্রতিদিন এমন অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হতে হয়, তাহলে এই হল ব্যবস্থাপনার কোনো মানে নেই। আমাদের প্রশ্ন—এই অব্যবস্থাপনার দায়ভার কে নেবে? আমাদের নিরাপদ খাবার, সুস্থ পরিবেশ এবং সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার অধিকার আছে।


ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে যবিপ্রবির ড. এম আর খান মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিক হাসান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি, যাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। গতকাল রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিল। পয়জনিংটি সম্ভবত সেখান থেকে ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং লুজ মোশনে আক্রান্ত। ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থায় একটু জটিল আকার ধারণ করেছে, আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে হয়তো এখানে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না, অন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।


হলের ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. মোছা. আফরোজা খাতুন বলেন, আমরা কিছুক্ষণ আগে জানতে পারছি ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে। সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিক্যালে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি। আর হলের ডাইনিংয়ের যে বিষয়টি, সেটি হল গতকাল দুপুরে আমিও ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছি। রাতের খাবারে আসলে কি হয়েছে এখনো জানতে পারিনি। মিল ম্যানেজারের বিষয়ে যে অভিযোগ সেটা হল, শিক্ষাথীরা খাবার নিয়ে অভিযোগ করলে তখন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতেই ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ভালো ম্যানেজারদেরকে পুরস্কৃতও করা হয়।


যবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারে দায়িত্বরত নারী চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয় জানতে তাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সুযোগ হয়নি। তবে আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত জামান পরবর্তীতে সাংবাদিককে কল করে যানান তিনি ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবেন, বলে কল কেটে দেন।