ইবিতে শিক্ষিকা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসন ভবনে তালা
নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৮
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা। এতে প্রশাসন ভবনে উপাচার্য, প্রক্টরসহ অন্যান্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, পূর্বে সংঘটিত সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তাদের দাবি, আগের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হলে এমন হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যেত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ ঘটনায়ও বিচারপ্রক্রিয়া গতিহীন হয়ে পড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এসময় তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফজলু, শ্যাম সুন্দর সরকার, হাবিব ও বিশ্বজিতসহ সকল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি নির্মাণাধীন হলের নাম ‘আসমা সাদিয়া রুনা’র নামে রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানান তারা।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে দুপুর ১টার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ জানান, ঘটনার বিষয়ে দুই ধরনের তদন্ত কার্যক্রম চলছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি এবং অন্যটি পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। আগামীকাল রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অপর তিন আসামির মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে। তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সব আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পয়েন্টে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করেলেও বাকি তিন অভিযুক্ত এখনো পলাতক। আসামিরা হলেন– বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

logo-2-1757314069.png)
