ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচার দাবিতে মৌন মিছিল
নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৮
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মৌন মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আয়োজনে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব মোর্শেদ, অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজলসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থীও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান তারা।
অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের কারণেই অনিয়মের সঙ্গে তার এক ধরনের সংঘাত তৈরি হয়েছিল। যেখানে অনেকেই দায়িত্ব পালনে দায়সারা মনোভাব দেখান, তিনি সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণেই তিনি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে মনে করি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে সবার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে আরও বলিষ্ঠ ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি। রুনার পরিবার এখনো কোনো আর্থিক সহযোগিতা পায়নি, তাই তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবিচারের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে, সেই প্রত্যাশা করি।
অধ্যাপক ড. মাহবুব মোর্শেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবি।
তিনি আরও বলেন, অন্যায়কে চিহ্নিত করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা যেন না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের, বিশেষ করে তার সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় ৫ মার্চ নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলার প্রধান আসামি হত্যাকারী ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

logo-2-1757314069.png)
