Logo
×

শিক্ষা

বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবিতে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

Icon

নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৫

বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবিতে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-তে আল কুরআন, আল হাদিস, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ বিষয়ে প্রভাষক পদে বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির আহ্বায়ক এসএম সুইট ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি মাহমুদুল হাসান, খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাদেক আহমেদসহ থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের “অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়?", "একই পদ, একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ?”, “অনার্সে যোগ্যতা, তবু কেন বঞ্চনা?”, "বৈষম্য দূর কর, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত কর", "একই পদে দুই নীতি, মানি না মানবো না", "শহিদের বাংলায়, দ্বিচারিতার ঠাঁই নাই" ও "শিক্ষা সবার অধিকার, বৈষম্য কেন বার বার?" ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

এসময় শিক্ষার্থীরা বৈষম্য দূরীকরণে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, মাদ্রাসার প্রভাষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের মতো আরবি ও ইসলাম শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা বাতিল করে শুধু স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিকেই ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা। সহকারী মৌলভী পদে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীদের জন্য বিএড বা এমএড ছাড়াই ১০ম গ্রেডে বেতন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার ব্যাপকতা ও মানদণ্ড বিবেচনায় প্রতিটি বিষয়ে অন্তত ৪ জন করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা।

মানববন্ধনে আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, হাসিনা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে। আমরা দেখেছি, প্রত্যেকটি নীতিমালায় কীভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দমন করা যায় সেই ষড়যন্ত্র হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিম করেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী প্রাণ দিলেও মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি বৈষম্য এখনও নিরসন হয়নি। আরবি প্রভাষক পদের আবেদন করার জন্য মাস্টার্স শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষক পদে অনার্স হলেই আবেদন করা যায়। স্পষ্টত এটা মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি বৈষম্য। 

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, অন্যান্য সাবজেক্টগুলো থেকে শুধুমাত্র সম্মান হলে তারা সম্মানের সাথে প্রভাষক হতে পারে। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? এর জবাব আমরা এনটিআরসিএ-র কাছে চাই। মাদ্রাসা শিক্ষার শিক্ষক নিবন্ধনের যে সংখ্যা ছিল, সেটাও কমিয়ে আনা হয়েছে। শুধুমাত্র এই দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে চিরতরে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা এগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানাই, এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ থেকে ২০২৪ এর গণ আন্দোলন পর্যন্ত আলেম-উলামা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আজাদীর লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি শুধু রক্ত দিয়েই যাবে আর বারবার বৈষম্যের শিকার হবে? এই আন্দোলনে যেন আর কোনো প্রাণ না ঝরে, কোনো পরিবার শূন্য না হয়। আন্দোলন জোরদার করে এনটিআরসিএকে বাধ্য করতে হবে। দাবি না মানলে, তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ‘মার্চ টু এনটিআরসিএ’ কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।

উল্লেখ্য, এনটিআরসিএর বিগত সার্কুলারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের নাম উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ করার কারণে নতুন করে সংযোজন করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।