পোস্তার চামড়া বাজারে মাদ্রাসাভিত্তিক বিক্রেতাদের ভিড়, কম দামে ক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১০:০৭
কোরবানির ঈদের দিন রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তা কাঁচা চামড়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মাদ্রাসাভিত্তিক বিক্রেতাদের। বিভিন্ন এতিমখানা, হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে চামড়া নিয়ে এসেছেন আড়তগুলোতে।
তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় এবং ট্যানারি মালিকদের আর্থিক সংকটের কারণে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এদিকে বাজারে মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও সাধারণ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই এবার চামড়ার ব্যবসা থেকে দূরে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পর থেকেই লালবাগের শায়েস্তা খান রোড, রাজ নারায়ণ ধর রোড ও আশপাশের এলাকায় জমতে শুরু করে কাঁচা চামড়ার বাজার। আড়তদারদের হাঁকডাক, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর ট্রাকের সারিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে সরগরম। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া আসতে থাকে পোস্তায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাঝারি চামড়া ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং ছোট চামড়া ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অনেক বিক্রেতা অভিযোগ করেন, গড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না তারা। লালবাগের একটি কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হাফেজ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম গত বছরের চেয়ে ভালো দাম পাব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি চামড়ার দাম অনেক কম। এত কষ্ট করে সংগ্রহ করেও আশানুরূপ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
মোহাম্মদপুর থেকে চামড়া নিয়ে আসা মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আলামিন বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য এই টাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আড়তদাররা কম দাম বলছেন, যা বলে তা দিয়ে পরিবহন ও লেবার খরচও উঠছে না। যাত্রাবাড়ির একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. জহিরুল হক বলেন, ১৮০টি চামড়া নিয়ে এসেছি। বড় চামড়ার দাম বলছে ৬৮০ টাকা। ছোট চামড়া নিতে চাইছে না। সংগ্রহ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি চামড়ায় প্রায় ২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। এই দামে বিক্রি করলে মাদ্রাসা চালানো কঠিন। দাওয়াতুল কুরআন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. জুনায়েদ বলেন, সকাল থেকে ঘুরে ১৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছি। পরে এসে দেখি ছোট চামড়াগুলো আলাদা করে বাদ দিচ্ছে। ২০-২৫টি চামড়ার দামই দেবে না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি। পুরান ঢাকার জুরাইনের দারুল উলুম মহিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার মাওলানা মো. জাকির হোসেন বলেন, ১৮০টি চামড়া এনেছি। গড়ে ৬৫০ টাকা করে দাম পেয়েছি। অথচ গাড়িভাড়া, সংগ্রহ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় সবটাই চলে গেছে। সরকার বললেও আমরা কোনো লবণ বা প্রশিক্ষণ পাইনি। বাজারে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি থেকে সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় আড়তদারদের পুঁজির সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আগের মতো বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না। পাশাপাশি লবণ ও রাসায়নিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে।
পোস্তার একাধিক আড়তদার জানান, ঈদের দিন বিকেল ৫টার পর থেকে মূল কেনাবেচা শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে। সংগ্রহ করা চামড়া প্রথমে লবণজাত করে পরে সাভারের হেমায়েতপুরের ট্যানারিগুলোতে পাঠানো হয়। তবে গত বছরের মতো এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তারা আরও বলেন, ট্যানারি মালিকদের আর্থিক সংকট ও রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তারা বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না। এছাড়া সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এবার কম পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করছেন।

logo-2-1757314069.png)
