Logo
×

অর্থ ও বাণিজ্য

একক ঋণগ্রহীতা সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাড়বে বড় ব্যবসায় ঋণপ্রবাহ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১১:৩৩

একক ঋণগ্রহীতা সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাড়বে বড় ব্যবসায় ঋণপ্রবাহ

বড় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে একক ঋণগ্রহীতার ঋণসীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অর্থায়ন সহজ করতে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) ও গ্যারান্টির মতো নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ঝুঁকি গণনার হারও কমানো হয়েছে।

এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এখন থেকে কোনো ব্যাংক তাদের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত একটি একক ঋণগ্রহীতা বা ব্যবসায়ী গ্রুপকে ঋণ দিতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে বড় শিল্পগোষ্ঠী, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ট্রেডিং হাউজগুলো একটি ব্যাংক থেকেই আগের তুলনায় বেশি ঋণ নিতে পারবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যাংকের মূলধন যদি ১ হাজার কোটি টাকা হয়, তবে আগে একটি গ্রুপকে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যেত। নতুন নিয়মে সেই সীমা বেড়ে দাঁড়াবে ২৫০ কোটি টাকায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ঝুঁকি গণনার হারও কমিয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো সুবিধার ক্ষেত্রে ঋণসীমা হিসাবের সময় এখন মাত্র ২৫ শতাংশ মূল্য গণনা করা হবে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। ফলে একই সীমার মধ্যে ব্যাংকগুলো আরও বেশি আমদানি ও রপ্তানি এলসি খুলতে পারবে। আগে ১০০ কোটি টাকার একটি এলসি কোনো ব্যাংকের একক ঋণসীমার ৫০ কোটি টাকা হিসেবে গণনা হতো। এখন সেটি মাত্র ২৫ কোটি টাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভবন কমাতে একক ঋণগ্রহীতা সীমা কঠোর করা হয়েছিল। তার আগে ব্যাংকগুলো মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারত, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ ছিল ফান্ডেড এবং ১০ শতাংশ নন-ফান্ডেড এক্সপোজার। ব্যাংকারদের মতে, নতুন এই শিথিলতা বড় অঙ্কের অর্থায়ন সংকটে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেবে। বিশেষ করে ডলারের অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যেসব আমদানিকারকের কার্যকর মূলধনের চাহিদা বেড়েছে, তারা উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন সময় পার করছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। তার মতে, আগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যাংক ভালো গ্রাহকদেরও প্রয়োজনীয় ঋণ দিতে পারছিল না। আমিরুল হক এই নমনীয়তা ভালো গ্রাহকদের জন্য অর্থায়নের বাধা দূর করবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী, গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানান। এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, টাকার অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা ও শিল্প খাতকে সহায়তা দিতে এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে বড় কর্পোরেট গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।